কুমিল্লাবুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রতিবেশীর পরিকল্পনায় ডাকাতি, মামলার সাক্ষী থেকে আসামি

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জুলাই ২২, ২০২৬ ২:১৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের মাহাদি নগর এলাকায় একই ভবনের প্রতিবেশী নারীর পরিকল্পনায় অন্য এক বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় পরিকল্পনাকারীসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকার ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তালেবুর রহমান এ তথ্য জানান।

যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তারা হলেন— ডাকাতির পরিকল্পনাকারী জেসমিন আক্তার ইয়াসমিন (৩৭), ফারুক খান (৫০), রিপন মিয়া (৪২), সজীব আলম (২৯)।

ডিসি তালেবুর রহমান বলেন, গত ১৮ জুলাই সন্ধ্যায় কামরাঙ্গীরচরের মাহাদি নগরের অ্যাডভান্স টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাটে বাসা দেখার অজুহাতে প্রবেশ করেন ডাকাতরা। পরে ফ্ল্যাটে থাকা তিন নারীকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যান।

ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। এ ঘটনায় গত ১৯ জুলাই কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী পরিবার। 

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, একই ভবনের সপ্তম তলার বাসিন্দা জেসমিন ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী। তার পরিকল্পনায় ফারুক খান, রিপন মিয়া, সজীব আলমসহ অন্য সহযোগীরা ডাকাতি করেন।

পরে ২২ জুলাই গভীর রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কামরাঙ্গীচরের মুসলিমবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে সজীব আলমকে, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রিপন মিয়াকে এবং পরে ফারুক খানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের কাছ থেকে মোট ২ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

এরপর ফারুক খানের তথ্যের ভিত্তিতে একই ভবনের ৭ম তলার ফ্ল্যাট থেকে পরিকল্পনাকারী জেসমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাসা থেকে লুণ্ঠিত অর্থের মধ্যে ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

ডিসি আরও বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের পরে পুলিশকে জানিয়েছে, ভুক্তভোগী পরিবারটির সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ ও যাতায়াত ছিলো। এই বাসায় অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীর পেনশনের টাকা ছিলো। সেই টাকা লুট করতেই জেসমিন এই পরিকল্পনা করেন। পরে তিনি ডাকাতি করার পরিকল্পনা ও লোক সংগ্রহ করেন।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন জেসমিন নিজেই সরাসরি বাসায় প্রবেশ ও কাজ শেষে বের হয়ে যাওয়া নিশ্চিত করতে কাজ করেন। এই ঘটনায় জেসমিনসহ সরাসরি পাঁচজন জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া, আরও ৩ জন রেকির কাজ করেছেন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার চার আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।