মালয়েশিয়ায় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গতবছর থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ৯২ হাজারেরও বেশি অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে দেশজুড়ে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ১ লাখ ৩০ হাজার বিদেশিকে গ্রেফতার করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল ১০৪তম অভিবাসন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, যারা বৈধ প্রবেশপথ ব্যবহার না করে দেশে প্রবেশ করেছে, পাসের অপব্যবহার করেছে অথবা নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অভিবাসন বিভাগ ভবিষ্যতেও কোনো ধরনের আপস ছাড়াই এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিবাসন বিভাগের সক্ষমতা বাড়াতে কৌশলগত ও আধুনিক আইন প্রয়োগকারী সরঞ্জাম সংগ্রহে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে যাবে।
তিনি অভিবাসন বিভাগকে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি এবং জনসেবার দক্ষতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান। বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভাগটির ভূমিকা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সাইফুদ্দিন বলেন, প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে অভিবাসন বিভাগের দায়িত্ব মূলত শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে এর পরিধি অনেক বিস্তৃত। এখন সীমান্ত নিরাপত্তা, বিদেশিদের অবস্থান ব্যবস্থাপনা, মানবাধিকার, কল্যাণ এবং জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বিভাগটি।
তিনি আরও বলেন, অভিবাসন বিভাগের সেবার দক্ষতা দেশের অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। দ্রুত ও কার্যকর অভিবাসন সেবা বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে মালয়েশিয়ার প্রতি আস্থা বৃদ্ধি করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে মালয়েশিয়ার পাসপোর্ট বিশ্বের তৃতীয় শক্তিশালী পাসপোর্টের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। পাশাপাশি নতুন পাসপোর্ট ইস্যু বা নবায়নের পুরো প্রক্রিয়া মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন হচ্ছে, যা বিশ্বের দ্রুততম পাসপোর্ট সেবা ব্যবস্থাগুলোর একটি।











