কুমিল্লাবুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আজাদ কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী হতে চান নওয়াজ শরিফ

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জুলাই ২২, ২০২৬ ১:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পাকিস্তানের আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের (এজেকে) প্রধানমন্ত্রী হতে চান বলে জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। তবে ব্যক্তিগত কোনও রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা নয়, বরং অঞ্চলটির উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিজে তদারকি করে দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এমন ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি। আসন্ন নির্বাচনে তার দল জয়ী হলে তাকে আজাদ কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের কাছে অনুরোধ জানাবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন নওয়াজ।

সংবাদমাধ্যম  বলছে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মুজাফফরাবাদে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে নওয়াজ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আজাদ কাশ্মীর এবং ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা রয়েছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন হলেও আজাদ কাশ্মীর সেই ধরনের গুরুত্ব পায়নি।

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানজুড়ে মোটরওয়ে, মহাসড়ক ও এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ হয়েছে। কিন্তু ৩০ বছর আগে মুজাফফরাবাদে যে সড়ক ছিল, এখনও মানুষ সেই সড়কই ব্যবহার করছে। কোহালা থেকে মুজাফফরাবাদ পর্যন্ত এখনও কেন একটি মহাসড়ক নির্মাণ করা হয়নি?’

পাকিস্তানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার শাসনামলে রাজা ফারুক হায়দার যখন আজাদ কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনি ঝিলম নদীর তীরঘেঁষে মানসেহরা, মুজাফফরাবাদ ও মিরপুরকে সংযুক্ত করে একটি মোটরওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছিলেন। তিনি এ প্রকল্পকে পাকিস্তানের অন্যতম সেরা ও ব্যতিক্রমধর্মী উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি ছিল আজাদ কাশ্মীরের জনগণের জন্য পিএমএল-এনের উপহার।

নওয়াজ বলেন, প্রকল্পটি শেষ হলে পুরো অঞ্চলে সড়ক, হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নেটওয়ার্ক গড়ে উঠত এবং ব্যাপক সমৃদ্ধি আসত। তিনি বলেন, আজাদ কাশ্মীর এবং পাকিস্তানের পাঞ্জাব, সিন্ধ, বেলুচিস্তান, খাইবার পাখতুনখাওয়া কিংবা ইসলামাবাদের মধ্যে তিনি কখনোই বৈষম্য করেননি।

তিনি বলেন, ‘আমার কাছে আজাদ কাশ্মীর পাঞ্জাবের মতোই প্রিয়। এটি আমার দ্বিতীয় বাড়ি। আমার পূর্বপুরুষরা কাশ্মীর থেকে এসেছিলেন।’

নওয়াজ শরিফ জানান, তিনি পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজকে কাশ্মীরের মানুষের জন্য একটি ‘উপহার’ নিয়ে আসতে বলেছেন। তিনি বলেন, যেমন কেউ কারও বাড়িতে গেলে মিষ্টি বা ফল নিয়ে যায়, তেমনি কাশ্মীরের মানুষের জন্যও একটি উপহার থাকা উচিত।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা-কর্মসূচি অনেক বড়। এখানে পিএমএল-এন সরকার গঠন করলে আমরা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সব প্রকল্প বাস্তবায়ন করব।’

নওয়াজ বলেন, নির্বাচনে তার দল জয়ী হলে তাকে আজাদ কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী করার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে অনুরোধ জানাতে চান। তিনি বলেন, ‘আমি যদি এখানে প্রধানমন্ত্রী হই, তাহলে আজাদ কাশ্মীরের সব সমস্যা ও দুর্ভোগ দূর করব।’

তিনি আরও বলেন, তিনি আজাদ কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী না হলেও দলের স্থানীয় নেতৃত্বকে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের নির্দেশ দেবেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে প্রতি তিন মাস অন্তর মুজাফফরাবাদ, রাওয়ালাকোট ও অন্যান্য শহর সফর করে প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিজে তদারকি করবেন।

আজাদ কাশ্মীরের জন্য পাঞ্জাব সরকারের ঘোষিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কথা উল্লেখ করে নওয়াজ বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মুজাফফরাবাদে ১০টি সবুজ বাস পৌঁছাবে। পাশাপাশি খুব শিগগিরই সেখানে বৈদ্যুতিক বাস চলাচল শুরু হবে। তিনি আরও ঘোষণা দেন, আজাদ কাশ্মীরে ১৫টি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল দেয়া হবে। এতে দুর্গম এলাকার স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নওয়াজ বলেন, ‘এখানে কেউ অসুস্থ হলে এখনও তাকে খাটিয়ায় করে সড়ক পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়, এরপর ইসলামাবাদে পাঠানো হয়। পথে অনেকের মৃত্যুও হয়। এমন পরিস্থিতি থাকা উচিত নয়।’

তিনি বলেন, তার সরকারের শুরু করা মোটরওয়ে প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ তার সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই থেমে যায়। তিনি বলেন, ‘সেসব প্রকল্প চলতে থাকলে শুধু শেষই হতো না, আরও সম্প্রসারিত হতো। আমরা অনেক মূল্যবান সময় হারিয়েছি, আর সেটিই আমাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়।’

নওয়াজ বলেন, আজাদ কাশ্মীরের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আর সময় নষ্ট করা উচিত নয়। তার অভিযোগ, তার পর ক্ষমতায় আসা সরকারগুলো কাজের পরিবর্তে শুধু স্লোগান ও আবেগনির্ভর বক্তব্য দিয়েছে এবং পাকিস্তানের ক্ষতি করেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আবার ক্ষমতায় ফিরলে হারিয়ে যাওয়া সবকিছু পুষিয়ে দেব।’

পাকিস্তানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একদিন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির দিক থেকে মুজাফফরাবাদ ইসলামাবাদ, লাহোর, করাচি, পেশোয়ার ও কোয়েটাকেও ছাড়িয়ে যাবে বলে তার আকাঙ্ক্ষা।