আর্জেন্টিনার গোলপোস্টের নিচে এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে চ্যালেঞ্জ জানানোর দুঃসাহস কারোরই নেই। কাতার বিশ্বকাপে অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ে বড় অবদান তার। উত্তর আমেরিকায় আর্জেন্টিনার শিরোপা রক্ষার অভিযানেও তেকাঠির নিচে তার ওপরই দায়িত্ব সঁপে নির্ভার থাকতে চান কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি। কিন্তু মার্টিনেজকে নিয়ে সামান্য হলেও শঙ্কা আছে। অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ইউরোপা লিগের ফাইনাল খেলতে গিয়ে মার্তিনেজের হাতের আঙুলে চিড় ধরেছে, যদিও বিশ্বকাপের আগেই ফিট হয়ে ওঠার কথা তার।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ বাংলাদেশ সময় ১৭ জুন সকালে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের উদ্বোধনী ম্যাচের শুরুর একাদশেই থাকার কথা এমি মার্টিনেজের। তবে চোটের কারণে দুই প্রস্তুতি ম্যাচে সম্ভবত সাইডলাইনে বসেই থাকতে হবে আর্জেন্টিনার প্রথম পছন্দের এই গোলরক্ষককে। ফলে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দুটিতে নজর থাকবে মার্টিনেজের প্রধান বিকল্প হিসেবে স্কোয়াডে থাকা অপর দুই গোলরক্ষক জেরোনিমো রুল্লি আর হুয়ান মুসোর মধ্যে কে এগিয়ে থাকেন।
আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি একটি বিষয় নিয়ে নিশ্চিত যে আলবিসেলেস্তের এক নম্বর গোলরক্ষক এমি মার্টিনেজই। তবে তার হাতের চোটের কারণে কোচিং স্টাফ পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তার খেলার সম্ভাবনা প্রবল হলেও, এর আগে হওয়া দুটি প্রীতি ম্যাচ মূলত নির্ধারণ করবে কে হবেন দলের প্রথম বিকল্প গোলরক্ষক।
অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতার বিচারে রুল্লিই আপাতত এগিয়ে। অলিম্পিক মার্সেইয়ের এই গোলরক্ষক আর্জেন্টিনার সিনিয়র দলের হয়ে সাতটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। এই সাত ম্যাচে আর্জেন্টিনা কোনো হার দেখেনি এবং তিনি মাত্র দুটি গোল হজম করেছেন। তার সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল ২০২৪ সালের নভেম্বরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে পেরুর বিপক্ষে। ম্যাচটিতে আর্জেন্টিনা ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল।
রুল্লি আর্জেন্টিনার ২০২২ এর কাতার বিশ্বকাপ ও ফিনালিসিমা এবং ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকাজয়ী স্কোয়াডের সদস্য। ৩৪ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক চলতি মৌসুমে ৩৯ ম্যাচ খেলেছেন এবং ফরাসি লিগে পঞ্চম স্থানে থাকা মার্সেইয়ের হয়ে ৫২ গোল হজম করেছেন।
অন্যদিকে মুসো ক্লাবে রুল্লির মতো নিয়মিত সুযোগ না পেলেও মৌসুমের শেষভাগে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে দারুণ পারফর্ম করেছেন। দলের প্রধান গোলরক্ষক ইয়ান অবলাক চোটে পড়লে তিনি গোলপোস্ট রক্ষার দায়িত্ব নেন এবং দলকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০২৬ সালে তার ফর্ম ছিল অসাধারণ; ১২টি ম্যাচে তিনি বহুবার দলের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
আর্জেন্টিনার হয়ে এখন পর্যন্ত মুসো খেলেছেন তিনটি অফিসিয়াল ম্যাচ। ২০১৯ সালে মরক্কোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ২৩ মিনিট, ২০২১ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বলিভিয়ার বিপক্ষে ৩-০ জয়ের ম্যাচে পূর্ণ সময় এবং ২০২৬ সালে জাম্বিয়ার বিপক্ষে ৫-০ জয়ের প্রীতি ম্যাচে ১৬ মিনিট মাঠে ছিলেন তিনি।
সবকিছু মিলিয়ে দেখলে রুল্লি সামান্য এগিয়ে আছেন বলেই মনে হয়। তবে মুসোর বর্তমান ফর্ম এতটাই ভালো যে রুল্লির নিশ্চিন্ত থাকার সুযোগ নেই। ৬ ও ৯ জুন হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দুটি অন্তত কোচ স্কালোনির ভাবনার কিছুটা ইঙ্গিত দেবে।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার যে মার্টিনেজ এবারও আর্জেন্টিনার প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক থাকছেন। আর তার অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব নেওয়ার মতো শক্তিশালী বিকল্পও দলের হাতে যথেষ্টই আছে।












