ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং দিনিপ্রোসহ কয়েকটি প্রধান শহরে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।
মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে চালানো এই ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন বলে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলমান এই যুদ্ধে রাশিয়া ও ইউক্রেন দুই পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসলেও সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষের মধ্যকার সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান এই যুদ্ধে রাশিয়া বারবার ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। অন্যদিকে ইউক্রেনও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার তেল স্থাপনা ও সামরিক অবকাঠামোয় পাল্টা হামলা বাড়িয়েছে।
গত সপ্তাহে রুশ-নিয়ন্ত্রিত লুহানেস্ক অঞ্চলের একটি ছাত্রাবাসে ড্রোন হামলায় ২১ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পর কিয়েভে ‘ধারাবাহিক হামলা’ চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিল মস্কো। যদিও ওই হামলার সঙ্গে নিজেদের জড়িত থাকার অভিযোগ আগেই প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, কিয়েভের বিভিন্ন বহুতল ভবনের কাছে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটছে এবং আকাশজুড়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়েছে। শহরটির মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, রাতভর হামলায় শুধুমাত্র রাজধানীতেই অন্তত চারজন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।
তিনি আরও জানান, একটি ২৪ তলা আবাসিক ভবনে সম্ভবত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে সেটির একটি অংশ ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে উদ্ধারকারী দল। এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি ৯ তলা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনসহ কয়েকটি স্থাপনায় আগুন লেগে যায়।
ক্লিচকোর ভাষ্য অনুযায়ী, ওবোলোন জেলায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়। পাশাপাশি খোলা জায়গার আরও দুটি স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যার একটি একটি কিন্ডারগার্টেনের নিকটবর্তী এলাকায় অবস্থিত। হামলার সময় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে হাজার হাজার মানুষ কিয়েভের মেট্রো স্টেশনগুলোতে ছুটে যান। এ সময় অনেককে প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও গদি নিয়ে ভূগর্ভস্থ স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নিতে দেখা যায়। একই সময়ে আকাশে রুশ হামলা প্রতিহত করতে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয় তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।
ভোর হওয়ার পরও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। বর্তমানে উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে জরুরি তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।












