জাপানে জনসংখ্যা কমছে আশঙ্কাজনক হারে। ২০২৫ সালের আদমশুমারি তথ্য বলছে, গত পাঁচ বছরে দেশটির জনসংখ্যা কমেছে প্রায় ৩১ লাখ। দেশটির জনসংখ্যা হ্রাসের এই ধারা টানা তৃতীয়বারের মতো রেকর্ড করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশটি এখন রোবোটিক্স ও বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে।
জনসংখ্যার এক নীরব সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে জাপান। দেশটির অভ্যন্তরীণ-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের পহেলা অক্টোবর পর্যন্ত জাপানের জনসংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৩০ লাখ ৪৯ হাজার ৫২৪ জন, যা ২০২০ সালের তুলনায় ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৫ জন কম।
জাপানে জনসংখ্যা কমার প্রবণতা নতুন নয়, তবে এখন এই হ্রাসের গতি সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ২০০৮ সালের পর থেকেই দেশটির জনসংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। তবে ২০১৫ সালে দেশটিতে জনসংখ্যা কমার হার স্পষ্ট হয়। এরপর ২০২৫ সালে টানা তৃতীয়বারের মতো জনসংখ্যা কমেছে জাপানে।
জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা হ্রাসই এই সংকটের মূল কারণ। এ অবস্থায় আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এই আদমশুমারির চূড়ান্ত ও বিস্তারিত পরিসংখ্যান প্রকাশ করার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক জনসংখ্যার শীর্ষ তালিকায় অবস্থান হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে জাপানের জন্য।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই নীরব বিপর্যয় আগামী বছরগুলোতে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শ্রমবাজার স্থিতিশীলতার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশটি এখন রোবোটিক্স ও বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে।












