কুমিল্লামঙ্গলবার, ২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রতিষ্ঠিত সন্তানদের মা, শেষ জীবনে ফ্ল্যাটে মিলল পচাগলা মরদেহ

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জুন ২, ২০২৬ ২:১১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাজধানীর মিরপুরে একটি ফ্ল্যাট থেকে নুরজাহান বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর অন্তত সাত থেকে আট দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

কক্ষের পরিবেশ ও পরিস্থিতি দেখে বৃদ্ধার শেষ জীবন চরম অবহেলা ও অযত্নে কেটেছে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

রোববার (৩১ মে) রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে মিরপুর-৬ এর সি ব্লকের ১৩ নম্বর সড়কের একটি বাসার চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় পল্লবী থানা পুলিশ।

সেখান থেকে নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির জানান, নুরজাহান বেগম তার মেয়ের সঙ্গে একই বাসায় থাকলেও আলাদা কক্ষে অবস্থান করতেন।কয়েকদিন ধরে কোনো সাড়া না পেয়ে রোববার একজন নার্সকে ডেকে আনেন তার মেয়ে। পরে ওই কক্ষে গিয়ে বৃদ্ধাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান নার্স।এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

ওসি বলেন, বৃদ্ধার মেয়ের সঙ্গে কথা বলে মৃত্যুর সময় ও পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি মায়ের মৃত্যুর সঠিক সময়ও বলতে পারেননি। এ কারণে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, যে কক্ষে নুরজাহান বেগম বসবাস করতেন সেটি ছিল অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন ও অগোছালো। কক্ষজুড়ে ছিল আবর্জনা। এমন পরিবেশ দেখে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও যত্ন থেকে বঞ্চিত ছিলেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নুরজাহান বেগমের সন্তানরা সবাই উচ্চশিক্ষিত ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত। তাদের মধ্যে কেউ সাবেক সচিব, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আবার কেউ বিদেশে বসবাস করেন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, যে মেয়ের সঙ্গে নুরজাহান বেগম থাকতেন, তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া পরিবারটি স্থানীয়দের সঙ্গেও খুব একটা মিশত না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃদ্ধার মেয়ের স্বামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ছিলেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে তিনি মারা যান।

পুলিশের ধারণা, অন্তত এক সপ্তাহ আগে নুরজাহান বেগমের মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে কোনো রহস্য রয়েছে কি না, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।