চট্টগ্রাম নগরীর চিড়িয়াখানার প্রবেশমুখে অবস্থিত রয়েল পার্ক নামের একটি আবাসিক হোটেল থেকে এক নারী ও পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা রোববার রাতে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ওই হোটেলে উঠেছিলেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড তা উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
সোমবার (১ জুন) বেলা ১১টার দিকে হোটেল রয়েল পার্ক এর ৪০৯ নম্বর কক্ষ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রোববার বিকেল ৩টায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে নগরীর ফয়সলেক এলাকার রয়েল পার্ক হোটেলে উঠেল। এ সময় হোটেলের চতুর্থ তলার ৪০৯ নাম্বার রুম ভাড়া নেয় তারা।
পুলিশ জানায়, ফয়স লেক চিড়িয়াখানার মুখে অবস্থিত আবাসিক হোটেল থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগেরও চেষ্টা করা হচ্ছে।
হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, হোটেলের রেজিস্টারে পুরুষের নাম মোহাম্মদ রিপন উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তার বাবার নাম মিরাজ আলী এবং মায়ের নাম সাহারা খাতুন লেখা।
অন্যদিকে, কক্ষ থেকে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়। ওই এনআইডি কার্ডে নারীর নাম লেখা সোনিয়া। তবে হোটেলে দেওয়া তথ্য ও পরিচয়পত্রের তথ্যের সত্যতা যাচাই করছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, নিহত দুজনই চট্টগ্রামের বাসিন্দা। কী কারণে এবং কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, ফয়’স লেক চিড়িয়াখানার মুখে অবস্থিত আবাসিক হোটেলটি থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা দুই জনই স্বামী-স্ত্রী। ছেলেটির নাম রিপন ও মেয়েটির নাম সোনিয়া। ছেলেটি ঝুলন্ত অবস্থায় ও মেয়েটিকে খাটে শোয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে, মেয়েটির মুখ থেকে বিষের গন্ধ উঠছিল। তারা কেন এবং কীভাবে মারা গেছেন, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।












