কুমিল্লাশনিবার, ৩০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দিনে ২৫ কেজি ঘাস খাচ্ছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’

প্রতিবেদক
Cumilla Press
মে ৩০, ২০২৬ ৪:১৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানার সবচেয়ে আলোচিত প্রাণীতে পরিণত হয়েছে অ্যালবিনো জাতের বিরল সাদা মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। চিড়িয়াখানায় আনার পর থেকেই দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রাণীটি। তার খাদ্যাভ্যাস, পরিচর্যা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর আতিকুর রহমান জানান, মহিষটি প্রতিদিন প্রায় ২৫ কেজি নেপিয়ার ঘাস খায়। পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদা পূরণে তাকে পাঁচ কেজি ছোলা ও ভুসির মিশ্রণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রতিদিন প্রায় ২০ কেজি পানি পান করছে প্রাণীটি। প্রয়োজন হলে খাবারের পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।

চিড়িয়াখানার নির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী সকাল ৯টার দিকে প্রথমে ছোলা-ভুসি দেওয়া হয়। এরপর বেলা ১১টায় প্রথম দফা ঘাস এবং দুপুরের পর দ্বিতীয় দফা ঘাস সরবরাহ করা হয়। বিকেল ৩টার দিকে দিনের শেষবারের মতো ছোলা-ভুসি খাওয়ানো হয়।

বর্তমানে মহিষটিকে ‘এল-০৭’ নম্বর খাঁচায় রাখা হয়েছে। খাঁচার সামনে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় তার পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। পাকা মেঝে ও টিনের ছাউনিযুক্ত এই খাঁচায় প্রাণীটির জন্য বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন গৃহপালিত পরিবেশে বেড়ে ওঠায় তাকে কিছুটা বেঁধে রাখা হয়েছে, যাতে সে স্বাভাবিক ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তীব্র গরমে স্বস্তি দিতে দিনে কয়েকবার পানি দিয়ে গোসল করানো হচ্ছে। শিগগিরই খাঁচার ভেতরে একটি স্ট্যান্ডফ্যান স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।নিরাপত্তার স্বার্থে মহিষটিকে দর্শনার্থীদের কাছ থেকে কিছুটা দূরে রাখা হয়েছে। তবে দূরত্ব সত্ত্বেও ঈদুল আজহার ছুটিতে হাজারো মানুষ এই বিরল প্রাণীটিকে একনজর দেখতে চিড়িয়াখানায় ভিড় করছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের গল্পটিও বেশ ব্যতিক্রমী। নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় অবস্থিত রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে জন্ম নেওয়া এই সাদা মহিষটির মাথার চুলের বিন্যাস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুলের স্টাইলের সঙ্গে মিল থাকায় এর নাম রাখা হয় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। গত মে মাসে একটি সংবাদ প্রকাশের পর প্রাণীটি দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

পরবর্তীতে কোরবানির উদ্দেশ্যে এক ব্যক্তি মহিষটি কিনে নিলেও আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত প্রাণীটির গুরুত্ব বিবেচনায় ঈদের আগের দিন প্রশাসনের উদ্যোগে সেটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে স্থায়ীভাবে জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হয়, যেখানে এখন দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে এই বিরল সাদা মহিষ।