কুমিল্লাশনিবার, ৩০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নাঙ্গলকোটে দাম না পেয়ে পুঁতে ফেলেন চামড়া, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ

প্রতিবেদক
Cumilla Press
মে ৩০, ২০২৬ ৪:১৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে কোরবানি পশুর চামড়ার দাম না পেয়ে গর্ত করে পুঁতে ফেলার চিত্র দেখা গেছে। শুক্রবার উপজেলার গোমকোট ও তেজের  বাজারের পাশে গরুর চামড়া পুঁতে ফেলা হয়েছে। এনিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা লোকশান দিয়ে ফেসবুকে চামড়া দাফন করা হচ্ছে ভিডিও পোস্ট করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,  ঈদুল আযহার দিন বিভিন্ন এলাকায় গরুর চামড়া সংগ্রহ করে একস্থানে জমাট করে অস্থায়ী কিছু ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ী। ওইখান থেকে বড় ব্যবসায়ীরা এসে চামড়া কিনবেন এ আশা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে। ব্যবসায়ীরা রাতে ঘুম না গিয়ে বসে বসে চামড়ার পাহারায় ছিলো। কিন্তু কোনো বড় পাইকার না আসায় ক্ষুব্ধ হয় তারা। মাঝে মাঝে অন্য উপজেলার ছোট পাইকার এসে ৫০-১শ টাকা দামে কিনে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। কোন বড় ব্যবসায়ী চামড়া ক্রয় করতে না আসায় অনেকে রাস্তার পাশে চামড়া রেখে চলে যায়। পরে শুক্রবার দুপুরের দিকে বিভিন্ন জায়গায় চামড়া পুঁতে ফেলা হয়।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, অস্থায়ী ব্যবসায়ীরা বাজার বা গ্রামের দোকানের সামনে চামড়া জমাট করে রাখে। এবার চামড়ার দাম একদম কম। বড় ব্যবসায়ীদের অপেক্ষায় রয়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। আবার অনেক লবণ দিয়ে চামড়া রেখে দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাই চামড়ায় লেগে থাকা মাংস অপসারণের কাজও চলছে। অনেক এলাকার ব্যবসায়ীরা দিশেহারা হয়ে খালে বা ভেকু মেশিন দিয়ে পুঁতে ফেলেছে এবং আর কখনও গরুট চামড়া ব্যবসা করবেন না মন্তব্য করেন।

এবিষয়ে মোড্ডা গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জসিম জানান, নগদ টাকা দিয়ে গরুর চামড়া কিনে বিপাকে পড়েছি। কিছু ব্যবসায়ী এসে চামড়ার দাম ৫০-১শ টাকা বলেছে। শেষ পর্যন্ত চামড়া পুঁতে ফেলেছি।

অপরিদকে গোমকোট গ্রামের অস্থায়ী ব্যবসায়ী ওসমান বলেন, ভাই দাম পাওয়ার আশায় নগদ টাকা দিয়ে মানুষদের কাছ থেকে বাড়ী বাড়ী গিয়ে চামড়া সংগ্রহ করেছি। কিন্তু চামড়ার দাম ঠিকভাবে বলেনি। তাই চামড়া গর্ত করে পুঁতে ফেলছি। চামড়া ক্রয়ের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহবান করছি।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু রায়হান বলেন, যারা জাতীয় সম্পদ নষ্ট করেছে ঠিক করেনি। আমরা প্রত্যেক মাদ্রাসায় লবণ পৌঁছে দিয়েছি চামড়া সংরক্ষণের জন্য। কেউ যদি আমাদেরকে অবগত করতো তাহলে দ্রুত লবন পৌঁছে দিতাম।