কুমিল্লা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ করেছেন তারই এক নারী সহকর্মী, যা নিয়ে জেলায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (২৪ মে) গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই কর্মকর্তা তাকে ব্যক্তিগতভাবে হয়রানি করে আসছিলেন। অফিসের কাজের অজুহাতে ছুটির দিনেও ডেকে বিভিন্ন অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন বলে দাবি তার।
তিনি অভিযোগ করেন, এসব প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তার প্রতি বিরূপ আচরণ শুরু হয়। একই সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগও তোলেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই প্রকল্পের লটারি পরিচালনা এবং অফিস ভবনের একাংশ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হতো।
ভুক্তভোগীর দাবি, সম্প্রতি তাকে অফিস কক্ষে ডেকে অন্য কর্মকর্তাদের সামনে অপমান করা হয়। একপর্যায়ে শারীরিকভাবে হেনস্তার শিকার হন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে সেখান থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন।
ঘটনার পর তাকে দ্রুত অন্য জেলায় বদলি করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি তাকে চুপ করিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।
অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বরং তিনি নিজেই ভুক্তভোগীর আচরণ নিয়ে অভিযোগ তুলে নিজের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ডাকেন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ জানায়, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে বদলির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেলেও অভিযোগের বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের ভেতরে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ ওঠায় প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে জনমনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।












