কুমিল্লারবিবার, ২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাংলাদেশে শিশুর প্রতি নৃশংসতার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা ইউনিসেফের

প্রতিবেদক
Cumilla Press
মে ২৩, ২০২৬ ১:৩১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে শিশুর প্রতি সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ইউনিসেফ। বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্সের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শিশুদের ওপর নৃশংসতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে!’

দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা বেড়েছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে ৪৬ শিশু। ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে ১৪ শিশু এবং ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা করা হয়েছে তিন শিশুকে।

ধর্ষণের শিকার দুই শিশু আত্মহত্যা করেছে। এছাড়া, বিভিন্ন ঘটনায় জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত ১১৫ শিশু খুন হয়েছে।

এর মধ্যেই রাজধানীতে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার ঘটনায় সারাদেশে তোলপাড় চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে শিশুদের প্রতি সহিংসতা বন্ধের পদক্ষেপ নিতে জোরাল আহ্বান জানাল ইউনিসেফ।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশজুড়ে সম্প্রতি শিশুদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মেয়ে ও ছেলেশিশুদের ধর্ষণ-হত্যার ঘটনাও রয়েছে। অথচ শিশুদের নিরাপদ থাকার কথা ছিল। এসব ঘটনায় ইউনিসেফ গভীরভাবে মর্মাহত ও শোকাহত। ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারের প্রতি ইউনিসেফ আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছে।


২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশজুড়ে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে নৃশংস ও যৌন সহিংসতার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি দেশব্যাপী শিশু সুরক্ষা ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং অবিলম্বে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ জোরদারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরছে। অপরাধীদের দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হবে। সেই সঙ্গে প্রতিরোধ, অভিযোগ জানানো, প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা, শিশুবান্ধব পুলিশ ও বিচারব্যবস্থা, কমিউনিটি সুরক্ষা এবং সামাজিক সেবার ঘাটতিগুলো দূর করতে হবে। একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের জন্য মনোসামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং স্কুল, মাদরাসা, কর্মস্থল, পাড়া-মহল্লা ও যত্নকেন্দ্রের জবাবদিহি আরও অনেক বেশি শক্তিশালী করা প্রয়োজন।’

শিশুর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সবার সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সম্প্রদায় নীরব থাকলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ইউনিসেফ শিশু, নারী, পরিবার ও কমিউনিটির সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে— তারা যেন বিদ্যমান সুরক্ষা সেবার মাধ্যমে সহিংসতা, নির্যাতন বা শোষণের ঘটনা অবহিত করেন।

নির্যাতনের শিকার শিশু ও নারীদের মর্যাদা সুরক্ষার আহ্বান জানিয়ে ইউনিসেফের বিবৃতিতে বলা, ‘তাদের ছবি, ভিডিও বা ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশ করা আরো একটি নির্যাতনের শামিল। যারা এসব শেয়ার করেন, তারা বেঁচে থাকা ভুক্তভোগীদের মানসিক আঘাত, পরিবারের ট্রমা এবং ভুক্তভোগীর প্রতি অসম্মান আরো বাড়িয়ে দেন।’

জনগণ, সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে বিবৃতিতে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকারকে সম্মান করা এবং বিতর্কিত কিছু কিছু শেয়ার না করার আহ্বান জানানো হয়। এতে বলা হয়, ‘প্রতিটি শিশুর সর্বত্র সুরক্ষার অধিকার রয়েছে। কমিউনিটি, স্কুল, ঘর, এমনকি জনপরিসরে তাদের গল্প ও ছবির ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এই সুরক্ষা থাকতে হবে।