কুমিল্লাবুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সবকিছুই যেন শেষ, দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বৃষ্টি

প্রতিবেদক
Cumilla Press
মে ৯, ২০২৬ ৮:৫৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করতে গিয়ে মুহুর্তেই নিভে গেল জীবনের আলো। তুচ্ছ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে খুন হলো মেধাবি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। খন্ডিত মরদেহ গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে নিয়ে আসলে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন ও পাড়াপ্রতিবেশিরা। চোখের সামনেই যেন সব কিছু শেষ। পরে জানাজা শেষে দাদা-দাদির কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় বৃষ্টিকে।

শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছায় বৃষ্টির খন্ডিত মরদেহ। দুপুর সোয়া একটার দিকে মরদেহটি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বৃষ্টিকে শেষবারের মতো এক নজর দেখতে ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন ও পাড়াপ্রতিবেশি। ছুটে আসেন বৃষ্টির ছোটবেলার খেলার সাথীরাও। সেখানে তৈরি হয় এক শোকাবহ পরিবেশ।

উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করতে গিয়ে খুন হওয়া বৃষ্টির স্বপ্ন শেষ হলো নিমিষেই। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হিশাম নামে যুক্তরাষ্ট্রের এক নাগরিক আটক করে দেশটির পুলিশ। ঘটনার বিচার দাবি করেন নিহতের পরিবার ও স্বজনরা।

বৃষ্টির ফুফাতো বোন জাবিন মরিয়ম বলেন, সারাক্ষণ হাসিখুশিতে থাকা মেয়েটি এভাবে খুন হবে, তাও যুক্তরাষ্ট্রের মত দেশে, এটা মেনে নেয়া কঠিন। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।

নিহত বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন জানান, এ শোক কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। যেখানে আনন্দঘন পরিবেশের দেশে ফেরার কথা বৃষ্টির, সেখানে লাশ হয়ে ফিরল। মনকে সান্ত্বনা দিতে পারছি না। আমেরিকার মতো দেশে এভাবে খুন হবে সেটা কল্পনাও করতে পারিনি। এমন হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত।

মাদারীপুর সদর উপজেলার চর গোবিন্দপুর গ্রামে জহির উদ্দিন আকনের একমাত্র মেয়ে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। বাদ আসর জানাজার নামাজ শেষে দাদা-দাদির কবরের পাশে দাফন করা হয় বৃষ্টির মরদেহ।

স্বজনরা জানায়, ৭ মাস আগে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য পাড়ি জমান আমেরিকায়। ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটিতে সুযোগ পাওয়ার সুবাধে সু-সম্পর্ক গড়ে ওঠে সহপাঠি জামিল আহম্মেদ লিমনের সাথে। সেখানে লিমনের সাথে এক মার্কিন নাগরিক রুমমেটের দ্বন্দ্বের জেরে গত ১৬ এপ্রিল লিমন ও বৃষ্টিকে ভার্সিটি ক্যাম্পাস থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়। এর ৮ দিন পর লিমনের খন্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ। পরে ৩০ এপ্রিল উদ্ধার হয় বৃষ্টিরও খন্ডিত লাশ।

জুলাই মাসে দেশে ফেরার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করতে যাওয়া মেধাবি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির। কিন্তু তার আগেই ঠিকই ফিরলেন তবে লাশ হয়ে। এমন মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। পরিবারে চলছে শোকের মাতম।