যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত স্থগিত করাকে কেন্দ্র করে পেরুর রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হোসে মারিয়া বালকাসারের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দেশটির প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী কার্লোস দিয়াজ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুগো দে জেলা তাদের পদত্যাগপত্রে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে মৌলিক মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করেন।
এর আগে প্রায় ৩৫০ কোটি ডলারের চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের লকহিড মার্টিন থেকে ধাপে ধাপে ২৪টি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা ছিল, যার প্রথম পর্যায়ে ১২টি বিমান যুক্ত হওয়ার কথা। তবে বালকাসার এই বড় আর্থিক সিদ্ধান্তটি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে এত বড় ব্যয়ের দায় ভবিষ্যৎ সরকারের ওপর চাপানো সমীচীন নয়। যদিও চুক্তি বাতিল করা হয়নি, বরং আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পেরুতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হলে তা মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, ফ্রান্স ও সুইডেনের কোম্পানির কাছ থেকেও প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তাব পেয়েছিল পেরু। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের প্রস্তাবকে সবচেয়ে উন্নত ও প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে দাবি করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পেরুর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে এবং তা লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের কৌশলের সঙ্গেও সম্পর্কিত।














