ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, ইরানকে অস্থিতিশীল ও জাতীয় পরিচয়কে হুমকির মুখে ফেলতে ১০টি বিদেশি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার ষড়যন্ত্র তারা নস্যাৎ করেছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সংঘটিত দাঙ্গাগুলো ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বাধীন একটি বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় পরিচয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করা।
বিবৃতিতে বলা হয়, ১২ দিনের যুদ্ধের পরপরই শত্রুপক্ষের কমান্ড রুম গঠিত হয়, যেখানে ১০টি শত্রু গোয়েন্দা সংস্থা অংশ নেয়। আইআরজিসির গোয়েন্দা শাখার দাবি, এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ছিল অভ্যন্তরীণ দাঙ্গাকে উসকে দেয়া এবং এর সঙ্গে বিদেশি হস্তক্ষেপ যুক্ত করে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের অস্তিত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করা।
আইআরজিসি জানায়, ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা এবং জনগণের সহযোগিতার ফলে এই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযানের অংশ হিসেবে অ্যান্টি-সিকিউরিটি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ৭৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ১১ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিকে তলব করা হয়েছে, ৭৪৩টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশি সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪৬ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিদেশি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সরাসরি শত্রুপক্ষের কার্যক্রমে সমর্থন দিয়েছেন। এর মধ্যে সহিংসতা ছড়ানো, জনসমাবেশে সন্ত্রাসীদের অপব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংসতা উসকে দেয়া এবং সংগঠিত সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের মাঠে নামিয়ে সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে হতাহতের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বিবৃতিতে জানানো হয়, আইআরজিসির গোয়েন্দা শাখা দাঙ্গাকারীদের যোগাযোগ নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ, সীমান্তবর্তী সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, এবং দাঙ্গা সৃষ্টিকারী নেটওয়ার্কগুলোকে চিহ্নিত করে কঠোরভাবে মোকাবিলা অব্যাহত রাখবে।
আইআরজিসির তথ্যমতে, বিদেশি প্ররোচনায় ইরানে দাঙ্গা শুরু হয় ৮ জানুয়ারি এবং কয়েক দিন ধরে তা চলতে থাকে। এর আগে ইরানের বাজার ও বিপণিবিতানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দিয়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটেছিল। মূলত ব্যবসায়ীদের ইরানি রিয়ালের অবমূল্যায়ন ঠেকাতে সরকারের পদক্ষেপ দাবির মাধ্যমে এর সূচনা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসরায়েলি সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে এই সহিংসতাকে উৎসাহ দেন। এর ফলে সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়, দোকানপাট, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও জনসেবামূলক স্থাপনা ধ্বংস হয় এবং নারী ও শিশুসহ হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হন।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সরাসরি এতে জড়িত ছিল এবং তারা দাঙ্গাকারী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ ও তথ্যগত সহায়তা দিয়েছে। ইরানের ফাউন্ডেশন অব মার্টায়ার্স অ্যান্ড ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স জানায়, দাঙ্গায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ মোট ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন।












