বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোট ও রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট ইসলামিক আলোচক ড. মিজানুর রহমান আজহারী।
বিশিষ্ট ইসলামিক আলোচক ড. মিজানুর রহমান আজহারী।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ভোট কোনো সাধারণ বিষয় নয়। এটি একটি আমানত। তাই ভোট দেওয়ার সময় সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীকে বেছে নেওয়া প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। তিনি আবেগ বা দলীয় অন্ধত্ব নয়, বরং বিবেক ও নৈতিকতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে এক ভিডিও বার্তায় রাষ্ট্র ও সমাজে ন্যায়বিচার এবং সুশাসনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন মাওলানা আজহারী। তিনি বলেন, সমাজের সর্বস্তরে ‘আল আদল’ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আদালতকে ন্যায়বিচারের কেন্দ্র বলা হলেও বাস্তবে অনেক সময় সেখানে মিথ্যা সাক্ষ্য ও মনগড়া রায়ের মতো ঘটনা ঘটে, যা পরিবর্তন হওয়া দরকার।
তিনি আরও বলেন, আদল বা ন্যায়বিচার না থাকলে সমাজে জুলুম ও বৈষম্য চেপে বসে। ইসলামে এর কোনো স্থান নেই। হাদিসে কুদসির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা নিজের ওপর জুলুম হারাম করেছেন এবং মানুষের জন্যও জুলুমকে হারাম করেছেন। তাই একে অপরের ওপর জুলুম করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে আর কোনো জুলুম, নতুন জালিম বা ফ্যাসিস্ট তৈরি হোক, এটা কাম্য নয়। এক দল আরেক দলকে নিশ্চিহ্ন করার রাজনীতিও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
মাওলানা আজহারীর মতে, দেশের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সুশাসনের বাংলাদেশ গড়ে তোলা। এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে বিশ্ব দরবারে সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো যাবে। তিনি বলেন, প্রকৃত ইনসাফ বা ন্যায়বিচার পশ্চিমাদের কাছ থেকে নয়, বরং বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন থেকে শিক্ষা নিতে হবে। কারণ জুলুমের সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই।
তার এসব বক্তব্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তার মন্তব্যকে দায়িত্বশীল, সময়োপযোগী এবং জাতির জন্য দিকনির্দেশনামূলক বলে মনে করছেন।












