বাংলাদেশকে একটি ‘ফুলের বাগান’ হিসেবে উল্লেখ করে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ভালোবাসার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশটা একটা ফুলের বাগান। এই বাগানে সুগন্ধি ফুল, সুন্দর ফুল এবং পাতাবাহার সবই আছে। যুক্তির দাবি, ঈমানের দাবি এবং বাস্তবতার দাবি হলো আমরা মিলেমিশে এই বাংলাদেশে বসবাস করব।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) নির্বাচনী প্রচারণার তৃতীয় দিনে বগুড়ায় এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অন্য ধর্মের মানুষকে ভালোবাসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি রসুলুল্লাহ (স.)-এর হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘হে মুসলমান, তুমি যদি পেট ভরে খাও আর তোমার ঘরের পাশে অন্য ধর্মের একজন অভুক্ত লোক থাকে, তুমি যদি প্রতিবেশী হিসেবে তার হক আদায় না করো, তবে তুমি আমার উম্মত নও।’ এরপর তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে সংখ্যালঘুদের সম্মান না করি, তবে বিদেশের মাটিতে আমাদের ভাইদের কারা ভালোবাসবে?’
পথসভায় ডা. শফিকুর রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আল্লাহ তখনই কোনো মানুষের ওপর খুশি হন, যখন ওই মানুষটা আল্লাহর জন্য অন্য মানুষকে ভালোবাসে। দল, ধর্ম, পেশা ও সামাজিক অবস্থা ভুলে গিয়ে আমরা আজ থেকে সমস্ত মানবকে ভালোবাসব।’
বগুড়ার ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ‘বগুড়া উত্তরবঙ্গের নাভি হিসেবে পরিচিত। এখানকার সাতমাথা সারা উত্তরবঙ্গকে সংযুক্ত করেছে। প্রশাসনিকভাবে রাজশাহী ও রংপুর দুটি বিভাগ হলেও বগুড়া তার গুরুত্ব হারায়নি। উত্তরবঙ্গ ও বগুড়াকে কেন্দ্র করে যত উন্নয়ন হয়েছে, তা এই বগুড়াকে কেন্দ্র করেই হয়েছে।’
জনসমাগম দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছিল এটি একটি পথসভা। কিন্তু এসে দেখি পথ হারিয়ে আমরা মাঠের মধ্যে ঢুকে গেছি। আলহামদুলিল্লাহ, এখন দেখছি এটি আর পথসভা নেই, জনসভায় রূপ নিয়েছে।’
বগুড়ার আলতাফুন্নেসা মাঠে মূল জনসভা অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামীতে বগুড়াকে কীভাবে দেখতে চাই এবং দেশের জন্য আমাদের ভাবনাগুলো মূল জনসভায় তুলে ধরব।’
১০ দলীয় প্রার্থীর পরিচয় ও প্রচারণা সভায় তিনি ১০ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৫ জন প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন। এদের মধ্যে জয়পুরহাটের দুইজন, গাইবান্ধার একজন এবং বগুড়ার দুইজন প্রার্থী রয়েছেন। ডা. শফিকুর রহমান তাদের ‘পাঁচ ভাই চম্পা’র সাথে তুলনা করে ভোটারদের কাছে আমানত হিসেবে তুলে ধরেন।
এর আগে রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে গাইবান্ধা হয়ে তিনি বগুড়ায় পৌঁছান।












