কুমিল্লাশনিবার, ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় পেলেন ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি যুবক

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জানুয়ারি ১৫, ২০২৬ ১০:৩২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ইসরায়েলের একজন ফিলিস্তিনি নাগরিককে রাজনৈতিক আশ্রয় মঞ্জুর করেছে যুক্তরাজ্য। এই ইস্যুতে সাবেক ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলির বিরোধী হস্তক্ষেপ ছিল। তবে, আদালতের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর শেষমেষ তিনি নিরাপদে যুক্তরাজ্যে থাকার সুযোগ লাভ করেছেন। খবর, দ্য গার্ডিয়ানের।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয় এ তথ্য।

এতে বলা হয়, ২৬ বছর বয়সী হাসান (আদালতের নির্দেশে প্রকৃত নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না) যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পাওয়া ইসরায়েলি পাসপোর্টধারী প্রথম ফিলিস্তিনি বলে ধারণা করা হচ্ছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দফতরকে একাধিকবার অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়।

হাসান ইসরায়েলে জন্মগ্রহণ করলেও জীবনের প্রায় পুরোটা সময় তার মা ও ভাইবোনদের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে কাটিয়েছেন। তিনি আশ্রয় আবেদন করেন এই যুক্তিতে যে, ইসরায়েলে ফেরত গেলে তিনি নির্যাতনের শিকার হবেন, কারণ তিনি যুক্তরাজ্যে থাকাকালীন অনলাইনে ও সরাসরি ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন।

এছাড়া, জাতিগতভাবে একজন ফিলিস্তিনি ও ধর্মীয় পরিচয়ে তার মুসলিম হওয়া ইসরায়েলে বৈষম্যের সূত্রপাতে যথেষ্ট— এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেন হাসান।

২০১৯ সালে তিনি প্রথম রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু করোনভাইরাস মহামারি এবং ধারাবাহিক লকডাউনের কারণে তার মামলাটি ঝুলে যায়।

আইনগত প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক ধাপে তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। তবে, গত বছরের ১১ মার্চ ফার্স্ট-টিয়ার ট্রাইব্যুনালের শুনানির ঠিক আগের দিন তাকে জানানো হয় যে, নিরাপত্তা যাচাই সাপেক্ষে তাকে শরণার্থী মর্যাদা দেয়া হবে। তবে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলির হস্তক্ষেপে স্বরাষ্ট্র দফতর সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে।

এরপর যুক্তরাজ্যের জয়েন্ট কাউন্সিল ফর দ্য ওয়েলফেয়ার অব ইমিগ্রেশন (জেসিডব্লিউআই) বা অভিবাসীদের কল্যাণে যৌথ পরিষদ-এর সহায়তায় হাসান আপিল করেন।

স্বরাষ্ট্র দফতরে আপিল বাতিল হওয়ার পর সেবছরের শেষ দিকে তাকে জানানো হয়, তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় পাচ্ছেন। হাসান জানান, আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন দীর্ঘ এই ৭ বছরে তিনি পেশাগত কাজ, পড়াশোনা এমনকি বাসা ভাড়া নেয়ার অধিকার থেকেও বঞ্চিত ছিলেন। পাশাপাশি তার কমিউনিটিও একাধিক সময়ে তাকে জোরপূর্বক ইসরায়েলে পাঠিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে।

এদিকে, জুডিশিয়াল রিভিউয়ের প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, ১১ মার্চ ২০২৪-এর সিদ্ধান্তে বলা হয়েছিল— ইসরায়েলে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কাঠামোগত বৈষম্য, জোরপূর্বক উচ্ছেদ, অধিকার সীমাবদ্ধতা এবং সমাজ থেকে বঞ্চনার ‘প্রচুর প্রমাণ’ রয়েছে।

জেসিডব্লিউআই-এর মুখপাত্র সিমা সাইদা বলেন, সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন থাকতেই পারে— ইসরায়েল কি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেছিল?

হাসানের আইনজীবী তাহের গুলামহুসেইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র দফতরের তিন কর্মকর্তাই একমত ছিলেন যে, হাসান একজন শরণার্থী এবং তিনি ইসরায়েলের হাতে নির্যাতনের ঝুঁকিতে রয়েছেন। কিন্তু, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দফতর এই স্বীকৃতি অস্বীকার করার চেষ্টা করেছে।’

মূলত, এই ঘটনার মাধ্যমে দেখা যায়, যুক্তরাজ্যের শরণার্থী আইন ও বিচারব্যবস্থা কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কার্যকর হলেও, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব শরণার্থীদের জীবনে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে।