কুমিল্লাশনিবার, ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আফগান সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বে ফাটল, নির্দেশ পালন নিয়ে তীব্র দ্বন্দ্ব

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জানুয়ারি ১৫, ২০২৬ ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মার্কিন মদদপুষ্ট সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা গ্রহণের পর আন্তর্জাতিকভাবে নিষেধাজ্ঞাসহ নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে আফগানিস্তান চালাচ্ছে তালেবান সরকার। এরপরেও গোষ্ঠীটির সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার কাছে বাইরের কোনো হুমকির থেকেও বড় উদ্বেগের বিষয় তাদের ভেতরের বিভক্তি। আর এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে বিবিসির হাতে আসা একটি ফাঁস হওয়া অডিও বার্তায়।

বার্তাটিতে আখুন্দজাদাকে সতর্ক করতে শোনা যায়। তিনি বলেন, ‘তালেবান সরকারের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধই একদিন ইসলামিক আমিরাতের পতনের কারণ ঘটাতে পারে। এই বিভাজনের ফলেই শেষ পর্যন্ত তাদের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।’

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কান্দাহারের একটি মাদরাসায় তালেবান সদস্যদের উদ্দেশে দেয়া ওই বক্তব্য দীর্ঘদিন ধরে চলমান গুজবকে আরও উসকে দেয়। মাসের পর মাস ধরে শোনা যাচ্ছিল তালেবানের শীর্ষ নেতৃত্বে গভীর মতানৈক্যের কথা, যা তালেবান বারবার অস্বীকার করে এসেছে, এমনকি বিবিসির সরাসরি প্রশ্নের মুখেও।

তবে এই গুজবের ভিত্তিতেই বিবিসির আফগান সার্ভিস পরিষেবা বছরব্যাপী অনুসন্ধান শুরু করে, যেখানে বর্তমান ও সাবেক তালেবান সদস্য, স্থানীয় সূত্র, বিশ্লেষক ও সাবেক কূটনীতিকসহ শতাধিক ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে গোপন রাখা হয়েছে তাদের পরিচয়।

এই অনুসন্ধানে প্রথমবারের মতো তালেবানের শীর্ষ স্তরে দুটি স্পষ্ট শক্তিকেন্দ্রের অস্তিত্ব উঠে আসে। এক পক্ষ পুরোপুরি আখুন্দজাদার অনুগত, যারা কান্দাহার থেকে একটি কঠোর, বিচ্ছিন্ন ও ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চান। এ পক্ষ চায়, আখুন্দজাদার প্রতি বিশ্বস্ত আলেমরা সমাজের প্রতিটি স্তর নিয়ন্ত্রণ করবেন। অন্যদিকে কাবুলভিত্তিক আরেকটি শক্তিশালী গোষ্ঠী রয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রভাবশালী কমান্ডার ও ধর্মীয় নেতা। তারা ইসলামি কাঠামোর মধ্যে থেকেও বিশ্বসম্পৃক্ত, অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর এবং মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ থাকা আফগানিস্তান গঠনের পক্ষে।

যে কারণে বিরোধ

একজন অভ্যন্তরীণ সূত্র এই দ্বন্দ্বকে আখ্যা দেন “কান্দাহার হাউস বনাম কাবুল” হিসেবে। এই টানাপোড়েন চরমে পৌঁছে যায় গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে, যখন আখুন্দজাদা হঠাৎ করে আফগানিস্তানজুড়ে ইন্টারনেট ও ফোন যোগাযোগ বন্ধের নির্দেশ দেন। তিনদিন পর কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই ইন্টারনেট পুনরায় চালু হয়। কিন্তু বিবিসিকে দেয়া অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, পর্দার আড়ালে ঘটে যাওয়া ঘটনা ছিল নজিরবিহীন। কাবুল গোষ্ঠী সরাসরি আখুন্দজাদার আদেশ অমান্য করে ইন্টারনেট চালু করে দেয়। এক তালেবান অভ্যন্তরীণ সূত্র একে সরাসরি ‘বিদ্রোহ’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তালেবানের ইতিহাসে শীর্ষ নেতার আদেশ প্রকাশ্যে অমান্য করার ঘটনা বিরল। সংগঠনটির মূল নীতিই হলো ঊর্ধ্বতনদের প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য। তাই এই সিদ্ধান্ত শুধু বিস্ময়করই নয়, তাৎপর্যপূর্ণও।

আখুন্দজাদার উত্থান সব সময় এমন ছিল না। ২০১৬ সালে তাকে তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা করা হয় মূলত ঐকমত্য গড়ার সক্ষমতার কারণে। সামরিক অভিজ্ঞতা না থাকায় তিনি উপদেষ্টা হিসেবে বেছে নেন সিরাজউদ্দিন হাক্কানি ও ইয়াকুব মুজাহিদকে। কিন্তু ২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর দুজনকেই কার্যত মন্ত্রিত্বে নামিয়ে এনে আখুন্দজাদা নিজেকে একক ক্ষমতার কেন্দ্রে পরিণত করেন। কাবুলের পরিবর্তে কান্দাহারকে তিনি ক্ষমতার ঘাঁটি বানান এবং বিশ্বস্ত কট্টরপন্থীদের দিয়ে নিরাপত্তা, ধর্মনীতি ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন।