কুমিল্লাশনিবার, ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিশুর ভেতর আরেক শিশু’, বিরল অস্ত্রপচারে সফল চিকিৎসকরা

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জানুয়ারি ১৫, ২০২৬ ৩:২৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর বুকে ছিল অপূর্ণ একটি ভ্রূণ। সেটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সফলভাবে অপসারণ করেছেন চিকিৎসকরা। এই বিরল ও জটিল অস্ত্রোপচারটি হয়েছে পাকিস্তানের রহিম ইয়ার খান জেলার শেখ জায়েদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দেশটির সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অত্যন্ত বিরল অবস্থাটি পরিচিত ‘ফিটাস ইন ফিটু বা ভ্রূণের ভেতরে ভ্রূণ’ নামে।

রেহান নামের শিশুটি দীর্ঘদিন ধরে কাশি ও শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছিল। এসব উপসর্গ নিয়ে তাকে হাসপাতালের পালমোনোলজি বিভাগে ভর্তি করা হলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও স্ক্যানের মাধ্যমে তার বুকের ভেতরে একটি আংশিক বিকশিত ভ্রূণের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। ভ্রূণটি ছিল হৃদ্‌যন্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালির একেবারে কাছাকাছি।

 এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করল ইরান

এই জটিলতা বিবেচনায় সিনিয়র থোরাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বে একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ভ্রূণটি অপসারণ করা সম্ভব হলেও সেটি জীবিত ছিল না। ডা. সুলতান মাহমুদ জানান, ভ্রূণটি হৃদ্‌যন্ত্র ও প্রধান ধমনির খুব কাছে অবস্থান করায় সামান্য ভুলও প্রাণঘাতী হতে পারত।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, ‘ফিটাস ইন ফিটু’ একটি জন্মগত বিরল অবস্থা, যেখানে যমজ সন্তানের একজন সঠিকভাবে বিকশিত না হয়ে অপরজনের শরীরের ভেতর থেকে যায়। বিশ্বব্যাপী প্রতি পাঁচ লাখ জন্মে মাত্র একটি ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা দেখা যায়। সাধারণত এসব ভ্রূণ পেটের ভেতরে পাওয়া যায়, তবে বুকের ভেতরে এমন অবস্থান অত্যন্ত বিরল।

রেহানের মা জানান, এর আগে তারা একাধিক চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন, কিন্তু কেউই সমস্যাটি শনাক্ত করতে পারেননি। তিনি চিকিৎসক দলটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, অস্ত্রোপচারের পর তার ছেলের শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং সে এখন ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে।

হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. ইলিয়াস রানা জানান, রেহান বর্তমানে থোরাসিক ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে এবং তাকে উন্নত চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। তিনি এই সফল অস্ত্রোপচারকে হাসপাতালের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এটি চিকিৎসকদের দক্ষতা ও আধুনিক চিকিৎসা সুবিধার প্রমাণ।