কুমিল্লায় দাউদকান্দি উপজেলার এক কলেজ ছাত্রীকে এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যায় গাজিপুরে। সেখানে টানা ৮ দিন জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় তাকে। সেই ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামী সাকিব র্যাবের জালে।
শনিবার (৫ অক্টোবর) ভোরে নরসিংদী জেলার পলাশ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সাকিবকে আটক করে র্যাব ১১ সিপিসি ২ কুমিল্লা।
আটককৃত ধর্ষক মো: সাকিব আহম্মেদ (২৪) কুমিল্লা দাউদকান্দি উপজেলার হাসনাবাদ এলাকার রিপন মিয়ার ছেলে।
র্যাব জানায়, ধর্ষক সাকিবকে আটকের পর প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় সাকিব ধর্ষণের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন৷ ভুক্তভোগী ওই কলেজ ছাত্রীর বাবা একজন ব্যবসায়ী। সে দাউদকান্দি উপজেলার স্থানীয় একটি কলেজে একাদশ শ্রেণীতে পড়াশুনা করেন। কলেজে যাওয়া আসার সময় ভুক্তভোগীর সাথে সাকিবের পরিচয়। একটা সময়ে গিয়ে ভিকটিমকে প্রেমের প্রস্তাবসহ বিবাহের প্রস্তাব দেয় সাকিব। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সাকিব তাকে বিভিন্ন ধরণের হুমকি ধামকি সহ অপহরণের ভয় দেখায়।
গত ২০ই সেপ্টেম্বর সকালে কেনাকাটা করার জন্য দাউদকান্দি থানার হাসনাবাদ এলাকায় পৌছালে, পূর্বপরিকল্পিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সাকিব ও তার সহযোগীরা ভিকটিমকে অপহরণ করে মাইক্রোবাস যোগে গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ী থানার মেম্বারবাড়ীতে নিয়ে যায়। সেখানে আসামী সাকিব পূর্বে ভাড়া করে রাখা একটি রুমে ভুক্তভোগীকে আটকিয়ে ২০ই সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে আসামী সাকিব ঐ বাসা থেকে পালিয়ে আত্নগোপনে চলে যায়। পরে ভিকটিম মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার বাসায় যোগাযোগ করলে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে।
এই বিষয়ে কুমিল্লা র্যাব ১১ সিপিসি ২ এর অধিনায়ক মাহমুদুল হাসান জানান, ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে কুমিল্লা দাউদকান্দি থানায় ৩০ই সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন। বিষয়টি জানতে পেরে র্যাব ১১ সিপিসি ২ অভিযানে নামে। আটক করে ঘটনার মূলহোতা সাকিবকে। গ্রেফতারকৃত আসামীকে দাউদকান্দি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।












