মুন্সীগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ১৭ দিনেই জেলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩৬০ জন। এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন মুন্সীগঞ্জের এক স্কুল শিক্ষক।
গত রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন ইংরেজি শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম রুবেল (৩৪)।
জানা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত বুধবার তিনি মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনি মারা যান।
হাসপাতালের ১৭ আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন আরও ৩০ জন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো ডেঙ্গু রোগীকে অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়নি।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে জুন মাস থেকে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় হাসপাতালে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। গুরুতর রোগীদের ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার করা হচ্ছে। তবে ঢাকায় রেফার করা রোগীদের মধ্যে অনেকের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে মুন্সীগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যানে এসব মৃত্যুর তথ্য যুক্ত হচ্ছে না। ফলে জেলার ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
হাসপাতাল সুত্রে জানাগেছে চলতি বছর এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯১ জনে এর মধ্যে জানুয়ারী মাসে ভর্তি হয়েছিল ১১ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ৫ জন, মার্চ মাসে ৪ জন, এপ্রিল মাসে ৩৯ জন, মে মাসে ৩৫ জন, জুন মাসে ১৫১ জন. জুলাই মাসে ৪৯৫ জন, আগস্টের ১৭ দিন ৩৬০ জন।
পরিসংখ্যান বলছে, জুন মাস থেকেই মুন্সীগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ দ্রুত বাড়তে শুরু করে। গত বছর পুরো বছরে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪১০ জন। চলতি বছরের মাত্র সাড়ে সাত মাসেই সেই সংখ্যার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
ডেঙ্গুর পাশাপাশি গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ১১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে একই সময়ে এআরআই ও নিউমোনিয়ায় নতুন কোনো রোগী ভর্তি হয়নি।
ডা. আরিফুজ্জামান মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা প্রদানে সবাত্নক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বর্তমানে হাসপাতালে ৫৪ জন ডেঙু রোগী ভর্তি রয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা সবচেয়ে জরুরি। বাসাবাড়ি, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকলে দ্রুত তা অপসারণ করতে হবে। জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথাসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।












