কুমিল্লাসোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিক্ষা মন্ত্রী ও উপদেষ্টার লন্ডন সফর: বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের রূপান্তর ও আধুনিকায়নের নতুন দিগন্ত

প্রতিবেদক
Cumilla Press
মে ২৫, ২০২৬ ২:১৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষাবিষয়ক সম্মেলন ‘এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ফোরাম ২০২৬’-এ অংশগ্রহণের লক্ষ্যে ১৮ মে থেকে ২৩ মে যুক্তরাজ্য সফর করেছেন বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন ও শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদি আমিন ।

এ সময় বাংলাদেশের প্রতিনিধি শিক্ষা মন্ত্রী ও উপদেষ্টা উভয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, বিভিন্ন সংস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দ্বি পাক্ষিক বৈঠক ও আলোচনায় ব্যস্ত সময় কাটান।

এই সফরকে ঘিরে শিক্ষা খাতে আধুনিক ও কর্মমুখী পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সেখানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি ও পরিকল্পনার রূপরেখা উঠে এসেছে।

সফরের মূল প্রত্যাশা:- আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা:

সফরটির মূল লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা। বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রী মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন:

মুখস্থ বিদ্যার অবসান: সনাতন মুখস্থ পদ্ধতির পরিবর্তে মেধা, সৃজনশীলতা এবং ব্যবহারিক শিক্ষার প্রসার ঘটানো।

কর্মমুখী শিক্ষা: শিক্ষার্থীদের কেবল সনদে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের দক্ষ, উদ্যোক্তা এবং কর্মসংস্থান উপযোগী করে তোলা।

প্রযুক্তির ব্যবহার: শ্রেণিকক্ষে ডিজিটাল প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়ন করা।

সফরের উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তি ও অর্জনসমূহ :

গুগল ফর এডুকেশনের সাথে সহযোগিতা: শিক্ষা মন্ত্রীর এই সফরের অন্যতম বড় প্রাপ্তি হলো গুগলের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সাথে সরাসরি আলোচনা। ‘গুগল ফর এডুকেশন’-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে সরকারের ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুগলের কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তা পাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে।

ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ উদ্যোগ: শিক্ষকদের ‘পরিবর্তনের অগ্রদূত’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মন্ত্রী প্রতিটি শিক্ষকের হাতে ডিজিটাল ডিভাইস বা ট্যাব তুলে দেওয়ার উদ্যোগের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে কার্যকর আলোচনার মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার একটি রূপরেখা তৈরি হয়েছে।

ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ: ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে মন্ত্রী বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের বেশ কিছু সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন, যা এই সফরের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্ব পেয়েছে।

তৃতীয় ভাষা শিক্ষা: শিক্ষার্থীদের বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে তৃতীয় একটি ভাষা শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া।

মাধ্যমিকে কারিগরি শিক্ষা: মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটানো।

বাজেট ও সামাজিক সহায়তা: শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা এবং মিড-ডে মিল কর্মসূচির সম্প্রসারণের ঘোষণা।

সবশেষে বলতে পারি, শিক্ষা মন্ত্রী ও উপদেষ্টার এই লন্ডন সফর বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি আধুনিক, আনন্দময় এবং প্রযুক্তি-নির্ভর কাঠামোর দিকে এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কেবল জ্ঞান অর্জন করবে না, বরং তারা সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে—এটাই বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা এবং সফরের চূড়ান্ত প্রাপ্তি।আগামীর সময়ের প্রতিবেদক কে এমনটাই বলছিলেন সফর শেষে দেশে ফিরে শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন ও শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদি আমিন।