মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ উভয় পক্ষই যুদ্ধ বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়ার পরও লেবাননে ইসরাইলের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। দক্ষিণ লেবাননজুড়ে এই হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে আটজন নিহত হয়েছেন এবং আরও অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন। খবর আল জাজিরার।
ট্রাম্প গত সোমবার (১ জুন) বলেন, তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে বলেছেন। এছাড়া তিনি হিজবুল্লাহর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও দাবি করেন। জানান, তারা ‘গুলি বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে’। এরপরও হামলা অব্যাহত রয়েছে।
লেবাননের সিভিল ডিফেন্সের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, সোমবার সিডন জেলার মারওয়ানিয়েহ শহরে ইসরাইলি হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও দুইটি শিশু রয়েছে। এই হামলায় আরও একজন নারী, একটি শিশু এবং চারজন অন্য ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, জিবচিত গ্রামে একটি ড্রোন হামলায় গাছের নার্সারিতে কর্মরত দুই সিরীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং নিকটবর্তী টুল গ্রামে আরেকটি হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। তৃতীয় হামলায় হারুফ গ্রামের কাছে একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে একজন নিহত হন।
এদিকে এই সংঘাতের মধ্যে ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে আজ মঙ্গলবার (২ জুন) আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই আলোচনার মধ্যদিয়ে ইসরাইলি হামলা ও দখল বন্ধ হবে বলে আশা করছেন লেবাননের আলোচকরা।
ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তিনি লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরিকে জানিয়েছেন যে, যদি ইসরাইল লেবাননের বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসন চালিয়ে যায়’, তাহলে তেহরান শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ বন্ধ করবে না, বরং ‘শত্রুর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে’ জড়াবে।
ইসরাইল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গত কয়েকদিন ধরে লেবাননে হামলা জোরদার করেছে। সোমবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে হিজবুল্লাহ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হামলার নির্দেশ দেন। এতে লেবাননে আরেক দফা বাস্তুচ্যুতি শুরু হয়েছে। যেখানে এরই মধ্যে এই সংঘাতে ১০ লাখের বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে।
নেতানিয়াহুর এই ঘোষণার পর ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা ইসরাইল ও তার মিত্রদের কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তারা বলেন, লেবাননে ইসরাইলের চলমান আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে।
ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড সতর্ক করে জানায়, যদি ইসরাইল দক্ষিণ বৈরুতে বোমা হামলার হুমকি বাস্তবায়ন করে, তাহলে অধিকৃত অঞ্চলের উত্তরাংশে বসবাসকারী ইসরাইলি নাগরিকদের এলাকা ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।
এরপর ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি বলে, ইসরাইল যদি তেহরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর ওপর লেবাননে হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে এপ্রিলের শুরুতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া যুদ্ধবিরতি খুব সম্ভবত ভেঙে যাবে। ইরানের এই কঠোর হুঁশিয়ারির পর পরিস্থিতি ভিন্ন মোড় নেয়।
ইসরাইলি ব্রডকাস্টিং অথরিটি (কান) জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জরুরি ফোনকলের পর প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। তবে দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় ইসরালের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু।
নাবাতিয়েহ শহরের বাসিন্দাদের পালানোর নির্দেশ
ইসরাইলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ শহরের বাসিন্দাদের আবার সতর্কবার্তা দিয়ে জরুরিভিত্তিতে পালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, কারণ এই বড় শহরে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে বলেন, ‘হিজবুল্লাহ সন্ত্রাসী সংগঠন যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করায় সেনাবাহিনী তাদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগে বাধ্য হয়েছে। আপনাদের নিরাপত্তার স্বার্থে অবিলম্বে বাড়ি ছেড়ে উত্তর দিকে যাহরানি নদীর ওপারে চলে যান।’
দক্ষিণ লেবাননে অভিযান চলবে: ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
এদিকে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ বলেছেন, দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান সব পরিস্থিতিতেই চলবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ইসরাইলি সেনাবাহিনী লেবাননে আরও অভিযান চালানোর সম্ভাবনা পর্যালোচনা করছে এবং সীমান্তের পরিস্থিতি অনুযায়ী হামলা আরও বিস্তৃত করা হতে পারে।
তিনি বলেন, ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা, আর তাৎক্ষণিক লক্ষ্য হলো লিতানি নদীর দক্ষিণের ইসরাইলি নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে হিজবুল্লাহর অস্ত্র সরিয়ে ফেলা।














