রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য বুধবার সকালে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আত্মপক্ষ সমর্থনের মাধ্যমে দুই আসামি নিজেদের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন। একইসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্কও উপস্থাপিত হতে পারে। এরপর মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে একদিনেই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলায় নিহত শিশুর বাবা-মা, বোন, তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত আলামত আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে সমর্থন করেছে।
গত ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। পরে ১ জুন আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডিএনএ পরীক্ষা, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। একইদিনে মামলার বাদীসহ একাধিক সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমনও জারি করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে নিখোঁজ হওয়ার পর রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে এক আসামিকে হেফাজতে নেয় এবং পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।
এই বহুল আলোচিত মামলার বিচার দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়ায় রায় ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারসহ দেশবাসী।












