ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, লেবাননের বৈরুতের ওপর হামলার মুখে তারা ‘চুপ থাকবে না’। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বৈরুতের ওপর যেকোনো হামলা পুরো অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত উসকে দিতে পারে এবং ফের ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ শুরু হতে পারে।
বুধবার (৩ জুন) লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-মায়াদিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন আরাঘচি। এছাড়া তিনি আরও বলেন, তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরোধ তখনই শেষ হবে, যখন লেবাননে হামলা বন্ধ হবে। তার জোরালো দাবি, যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে অবশ্যই লেবাননকে যুক্ত করতে হবে।
আরাঘচি আরও বলেন, যুদ্ধ বন্ধের জন্য লেবানন থেকে ইসরাইলি বাহিনীকে প্রত্যাহার করতে হবে। মার্চের শুরু থেকে লেবাননে হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইল।
এদিন শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মত হয় ইসরাইল ও লেবানন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বুধবার (৩ জুন) ওয়াশিংটনে ত্রিপক্ষীয় এক বৈঠকে দেশ দুটি তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি’তে পৌঁছায়। এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর হওয়া ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হওয়ার ওপর নির্ভর করছে। বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার শর্ত হলো, হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি হামলা বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে দক্ষিণ লেবানন থেকে গোষ্ঠীটির সদস্যদের সরিয়ে নিতে হবে।
এছাড়া দুই দেশ কিছু ‘পাইলট জোন’ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে একমত হয়েছে। এসব এলাকা লেবানিজ সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং সেখানে কোনো অরাষ্ট্রীয় পক্ষ বা সশস্ত্র গোষ্ঠী থাকতে পারবে না। তবে হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি মানবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
হিজবুল্লাহ বহুবার বলেছে যে, তারা ইসরাইল-লেবানন যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে স্বীকৃতি দেয় না এবং তা মেনে চলবে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, খুব সম্ভবত, ইরান-মার্কিন আলোচনার অংশ হিসেবে লেবাননে একটি শর্তহীন যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত হিজবুল্লাহ লড়াই চালিয়ে যাবে।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাৎজ এই চুক্তিকে ‘বাস্তবিক ও কূটনৈতিক উভয় স্তরেই একটি বিরাট সাফল্য’ বলে অভিহিত করেছেন। সেই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, যুদ্ধবিরতি হলেও হিজবুল্লাহ ইসরাইলি জনপদে হামলা করলে ইসরাইলি সেনাবাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতে আঘাত হানবে।
কাৎজের কথায়, ‘এই পর্যায়ে সেনাবাহিনী গুলিবর্ষণ ও স্থল অভিযান চালিয়ে যাবে, দক্ষিণ লেবাননে ‘ইয়েলো লাইন’ বরাবর (বিউফোর্ট এলাকাসহ) অবস্থান করবে। সেখানে লেবাননের বেসামরিক জনগণ ফিরে আসতে পারবে না। একই সঙ্গে স্থলভাগে সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করা অব্যাহত থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইসরাইলি জনপদ ও ভূখণ্ডে গুলি চালানো হলে আমেরিকার সমর্থনসহ বৈরুতে আঘাত হানার পূর্ণ স্বাধীনতা ইসরাইলি বাহিনীর থাকবে।’












