দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাজধানীসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র গরম ও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। বিশেষ করে খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষেরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আপাতত এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
তবে তাপপ্রবাহের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। বৃহস্পতিবার রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিচ্ছিন্ন স্থানে দমকা হাওয়া, বজ্রপাত ও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত লঘুচাপের বর্ধিতাংশ সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু টেকনাফ উপকূল পর্যন্ত অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী কয়েক দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ৫ জুন থেকে দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে। এর ফলে চলমান তাপপ্রবাহ ধীরে ধীরে দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।
৬ থেকে ৮ জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন বিভাগে ব্যাপক বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণও হতে পারে। এ সময় নদী অববাহিকা ও নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া বিভাগ।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, আগামী পাঁচ দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী গরমের পর কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তিকর আবহাওয়া কিছুদিন বজায় থাকতে পারে।












