বন্যার পানি কমলেও চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলাগুলোতে দুর্ভোগ কাটেনি। জলাবদ্ধতা, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ, ফসলের ক্ষতি এবং পানিবাহিত ও চর্মরোগ সংক্রমণের শঙ্কা বেড়েছে।
পানি নামলেও চট্টগ্রাম ও পার্বত্য তিন জেলায় দুর্ভোগ কমেনি বন্যা দুর্গতদের। অনেক এলাকায় এখনো বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ। সড়কে পানি ওঠায় স্বাভাবিক হয়নি সড়ক যোগাযোগ। ক্ষেতের ফসল নষ্টের পাশাপাশি ভেসে গেছে ঘেরের মাছ।
চট্টগ্রাম নগরীর নিচু এলাকা থেকে বৃষ্টির পানি নামলেও এখনো জলাবদ্ধতার কবলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া, চন্দনাইশের অন্তত ৬০ ভাগ বাসিন্দা। কোনো কোনো এলাকার বাসিন্দারা আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরলেও কমেনি ভোগান্তি। এরইমধ্যে পানিবাহিত ও চর্মরোগ সংক্রমণের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, দুর্গত এলাকায় পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, খাওয়ার স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সাপের উপদ্রব মোকাবিলায় পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম আছে বলেও জানান তিনি।
কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ার বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি নামলেও এখনো পানিবন্দি অন্তত ২০ গ্রামের বাসিন্দা। মাছের ঘেরের জন্য বাঁধ দেওয়ায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।
টানা ৬ দিন পর আশ্রয়কেন্দ্র থেকে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন বান্দরবান সদরের আর্মিপাড়া, মেম্বারপাড়া, কাশেমপাড়া, ইসলামপুর, হাফেজঘোনা, ক্যচিংঘাটা ও বালাঘাটা এলাকার বাসিন্দারা। তবে সদরের সঙ্গে রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচি উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এখনো। স্বাভাবিক হয়নি জেলার সঙ্গে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের সড়ক যোগাযোগও।
মাইনী ও চেঙ্গী নদীর পানি কমতে থাকায় খাগড়াছড়ি সদর, দীঘিনালা ও মহালছড়িতে স্পষ্ট হচ্ছে বন্যার ক্ষতচিহ্ন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় এক হাজার ৩১ হেক্টর জমির আউশ, আমনসহ বিভিন্ন ফসলের খেত নষ্ট হয়ে গেছে।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি, বরকল ও জুরাছড়ি উপজেলা থেকে নামছে বন্যার পানি। তবে পাহাড় ধসের ঝুঁকির কারণে এখনো আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়তে পারছেন না প্রায় ১ হাজার মানুষ।
ভারী বৃষ্টিতে কুমিল্লা নগরীর প্রধান সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকার কোথাও হাঁটু সমান, কোথাও কোমর সমান পানি। দুর্যোগে সবচেয়ে বিপাকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। কাঁদা পানি পেরিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয় শিক্ষার্থীদের












