টানা বর্ষণে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে নজিরবিহীন জলাবদ্ধতা। এ কারণে যেসব এইচএসসি পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেনি তাদের অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে।
এ নিয়ে পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকদের চিন্তিত না হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আহসান পারভেজ।
এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের অভিযোগ, সকাল থেকেই ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে অনেকেই অতিরিক্ত সময় ব্যয় করেছেন। কেউ কেউ বিকল্প যানবাহনের খোঁজে ছোটাছুটি করেছেন।
অনেক পরীক্ষার্থী ভিজে কাপড়েই পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে বাধ্য হয়েছেন।
কুমিল্লা মহিলা কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী মোসা. তাসলিমা আক্তার জানান, বৃষ্টিতে ভিজে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসতে হয়েছে, এমন দুর্যোগের সময় পরীক্ষা স্থগিত রাখার দরকার ছিল।
অন্যদিকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিচতলার কয়েকটি অংশে পানি প্রবেশ করায় রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ বেড়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও চলাচলের পথ পানিতে ডুবে যাওয়ায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই কুমিল্লা শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল দখল ও নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না হওয়ায় বছরের পর বছর এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। ফলে প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন নগরবাসী। স্থানীয়রা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে কুমিল্লা নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর মোহাম্মদ বশির জানান, জরুরি বিভাগ ও হাসপাতালের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়েছে,বাহিরের এলাকার পানি বেশি প্রবেশ করছে তবে বিকল্প উপায়ে জরুরি বিভাগ চালু রাখা হয়েছে।বৃষ্টি না হলে ধীরে ধীরে পানি কমে আসবে।
কুমিল্লা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুর রহমান বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় রেকর্ড হয়েছে ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি। দিনভর আরও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।’












