কুমিল্লার দেবিদ্বার স্কয়ার হাসপাতালে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর নবজাতককে বাবার হাতে তুলে দিয়ে মা চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে নবজাতকের বাবা মো. মমিনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে লিজা আক্তার নামে এক নারী দেবিদ্বার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে একটি সন্তান জন্ম দেন তিনি। বিকেল ৪টার দিকে নবজাতককে তার বাবা মো. মমিনের হাতে তুলে দিয়ে তিনি হাসপাতাল থেকে চলে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী শাহ আলম বলেন, সকাল ১০টা থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন মানুষের কাছে নবজাতককে দিয়ে দেওয়া ও বিক্রির চেষ্টা করতে দেখা গেছে। একপর্যায়ে নবজাতককে রেখে চলে যাওয়ারও চেষ্টা করেন ওই নারী।
হাসপাতালের এক নার্স জানান, হাসপাতালে আসার সময় তারা নিজেদের বাড়ি দেবিদ্বারে—এ পরিচয় দেননি। তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা এলাকার বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
জানা গেছে, লিজা আক্তার ও মো. মমিনের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই সম্পর্কের সূত্র ধরে লিজা আক্তার গর্ভবতী হন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এ সম্পর্ক ও সন্তান গ্রহণ না করার বিষয়টি জানা গেছে।
নবজাতকের মা লিজা আক্তার দেবিদ্বার পৌর এলাকার ভিংলাবাড়ি গ্রামের কবির হোসেনের মেয়ে। আর নবজাতকের বাবা হিসেবে পরিচয় দেওয়া মো. মমিন (২৪) একই এলাকার সাজু মিয়ার ছেলে।
এদিকে শনিবার রাত ৮টার দিকে মো. মমিনকে পুলিশ আটক করে।
বর্তমানে নবজাতকটি দেবিদ্বার স্কয়ার হাসপাতালেই রয়েছে।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নোমান হোসাইন বলেন, “শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী পরিবারের কেউ যদি শিশুটিকে নিতে চান, তাহলে পরিবারের কাছে দেওয়া হবে। আর পরিবার যদি শিশুটিকে নিতে না চায়, তাহলে আমরা শিশুটিকে সরকারি হেফাজতে নেব।”










