পবিত্র ঈদুল আজহার পর দেশের বিদ্যুৎ খাতে নতুন মূল্যহার কার্যকরের প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) শিগগিরই বিদ্যুতের খুচরা মূল্য পুনর্নির্ধারণ করতে পারে, যার ফলে গ্রাহকদের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে স্বল্প আয়ের গ্রাহকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর রয়েছে। ‘লাইফ লাইন’ শ্রেণিভুক্ত, অর্থাৎ মাসে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের বর্তমান সুবিধা বহাল রাখার বিষয়ে নীতিগত অবস্থান রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিইআরসি সূত্রে জানা যায়, মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার পর নতুন ট্যারিফ চলতি মাস থেকেই কার্যকর হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, আন্তর্জাতিক ঋণ সহায়তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ব্যয়-সামঞ্জস্য আনার উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় এ মূল্য সমন্বয়ের আলোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করে মূল্য বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে।
এর আগে গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলো উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয়ের যুক্তি তুলে ধরে মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়। বিভিন্ন কোম্পানি ইউনিটপ্রতি ভিন্ন ভিন্ন হারে দাম বাড়ানোর আবেদন করলেও বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি গড় হিসাবে অপেক্ষাকৃত সীমিত হারে মূল্য সমন্বয়ের সুপারিশ করেছে।
প্রাথমিক আলোচনায় উঠে এসেছে, বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ অনুযায়ী ধাপে ধাপে মূল্য বৃদ্ধি করা হতে পারে। কম ব্যবহারকারীদের ওপর তুলনামূলক কম চাপ রেখে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে উচ্চ হারে মূল্য সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও ঘোষণা না হলেও সংশ্লিষ্টদের ধারণা, নতুন ট্যারিফ কার্যকর হলে আবাসিক ও বাণিজ্যিক উভয় শ্রেণির গ্রাহকদের মাসিক বিদ্যুৎ ব্যয়ে প্রভাব পড়বে। তবে দরিদ্র ও সীমিত ব্যবহারকারী গ্রাহকদের সুরক্ষায় বিশেষ সুবিধা বহাল রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।












