কুমিল্লামঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খাগড়াছড়িতে মোবাইল কোর্টের ওপর হামলা, ইউএনওসহ আহত ১৫

প্রতিবেদক
Cumilla Press
মে ১২, ২০২৬ ৯:২৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

খাগড়াছড়ির রামগড়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযানকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর গ্রামবাসীর হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যসরা ১০ রাউন্ড গুলি ও রাবার বুলেট ছুড়েছে। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনাকারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শামীম ও থানার অফিসার ইনর্চাজ মো. নাজির আলমসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। 

আহতদের মধ্যে ইউএনওর নিরাপত্তায় নিয়োজিত চার আনসার সদস্য হচ্ছেন এপিসি মো. সালাহ উদ্দিন, নুর মোহাম্মদ-১, নুর মোহাম্মদ-২ ও খোরশেদ আলম। এছাড়া ইউএনও অফিসের স্টাফ আব্দুল ওহাব জুয়েল, ইউএনওর ড্রাইভার কামাল উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের স্টাফ হারুন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস স্টাফ জয়নাল আবেদীন, পৌরসভার স্টাফ সিহাব উদ্দিন, গ্রামবাসী নুর হোসেন, সুমন ত্রিপুরা, আজাদ ও আবুল হাসান। আহত চার গ্রামবাসী রাবার বুলেটে আহত হয়েছেন বলে জানান। আহতরা সকলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শামীম জানান, গোপন সংবাদে খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে রামগড় ইউনিয়নের পূর্ববলিপাড়া ও দক্ষিণ লামকপাড়া এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় কতিপয় লোক অভিযান পরিচালনায় অংশগহণকারীদের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে তারা এক-দেড়শ লোক জড়ো হয়ে ইটপাটকেল ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে তিনি নিজেসহ ১১ জন আহত হন। 

ইউএনও জানান, ওই এলাকায় প্রায় ১০টি স্পটে পাম্প মেশিনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়। 

রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজির আলম বলেন, ‘শতাধিক নারী ও পুরুষ একত্রিত হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ ও আনসার সদস্যরা পাঁচ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়ে।’

আহত গ্রামবাসী দেলোয়ার, সুমন ও নুর হোসেন অভিযোগ করেন, প্রশাসন কৃষকদের জমিতে সেচে কাজের জন্য খালের পাড়ে রাখা চারটি পাম্প মেশিন ভেঙে ফেলে। এতে গ্রামবাসী বাধা দিলে তারা গ্রামবাসীর ওপর গুলিবর্ষণ করে। 

কৃষক ফারুক অভিযোগ করেন, অভিযান পরিচালনাকারীরা তার একটি সেচের পাম্প মেশিন ভেঙে ফেলেছে। একইভাবে কিবরিয়া ও বশর নামে তিন কৃষকের সেচ পাম্প মেশিনও ভাঙা হয়। 

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম কৃষকদের সেচ পাম্প মেশিন ধ্বংস করার অভিযোগ অস্বীকার করেন।