কুমিল্লারবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরু চিনবেন যেভাবে

প্রতিবেদক
Cumilla Press
মে ১২, ২০২৬ ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছরের মতো এবারও পশুর হাটে কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরু নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

অধিক মুনাফার লোভে কিছু অসাধু খামারি ও ব্যবসায়ী স্বল্প সময়ে গরু অস্বাভাবিকভাবে মোটাতাজা করতে স্টেরয়েড, ক্ষতিকর গ্রোথ হরমোন ও বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ব্যবহার করে থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কৃত্রিম মোটাতাজাকরণ শুধু পশুর জন্যই কষ্টদায়ক নয়, বরং মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. মকবুল হোসেনের সঙ্গে কথা হয় জাগো নিউজের।

তিনি বলেন, কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরু সাধারণত স্বাভাবিক আচরণ করে না। গরুটি অনেক বেশি অলস বা ‘স্লাগিশ’ থাকে এবং হাঁটাচলায় অনীহা দেখা যায়। অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকলেও স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে চায় না। অতিরিক্ত মোটা হওয়ার কারণে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতেও কষ্ট হতে পারে।

তিনি বলেন, এ ধরনের গরুর শরীরে অতিরিক্ত চর্বি ও তরল জমে। ফলে চামড়ার নিচে ফোলা ভাব দেখা দেয়। হাত দিয়ে চাপ দিলে সেখানে দাগ বা গর্তের মতো সৃষ্টি হয় এবং সহজে আগের অবস্থায় ফিরে আসে না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘ইডিমা’ বলা হয়।

তিনি আরও বলেন, অনেক সময় গরুর মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা পড়তে দেখা যায়। শরীরের তুলনায় অস্বাভাবিক ভারী ও ফুলে থাকা গরু সহজে নড়াচড়া করতে পারে না এবং ক্লান্তভাব প্রকাশ করে।

ড. মকবুল হোসেন জানান, কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করতে স্টেরয়েড, অ্যান্টিবায়োটিক বা ক্ষতিকর গ্রোথ হরমোন ব্যবহার করা হলে তা মানুষের শরীরেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত এসব গরুর মাংস খেলে স্থুলতা, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদে লিভার ও কিডনির ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

তবে স্বাভাবিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করাকে নিরাপদ বলছেন তিনি। তার মতে, সুষম খাদ্য, খৈল, ইউরিয়া-মোলাসেস ও রাফেজ-কনসেনট্রেটের সঠিক অনুপাত বজায় রেখে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করা যায়। এতে পশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে না এবং মাংসও নিরাপদ থাকে।