এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ হেরেছে পাকিস্তান, যার নেপথ্যে ধারাবাহিক ব্যাটিং বিপর্যয়কে দায়ী করা হচ্ছিল। এরপর স্কোয়াডে সাত ক্রিকেটার পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে কম তুলকালাম হয়নি। চলমান এজবাস্টন টেস্টসহ নিজেদের পাঁচ ইনিংসেই দুইশ’র আগে অলআউট হয় বাবর আজমের দল। ফলে শেষ ম্যাচেও তৃতীয় দিনেই তাদের সামনে হারের শঙ্কা ছিল। তবে অবিশ্বাস্য কামব্যাকের পর এবার ইংলিশদের ১২৯ রানের লক্ষ্য দিলো পাকিস্তান।
লক্ষ্যটা যদিও ছোট, তবে এই সিরিজে পাকিস্তানের নাজুক ব্যাটিং এমন কিছুর সম্ভাবনাও দেখায়নি। সফরকারীদের আরেকবার ব্যাটিং দুর্ভোগ দেখার অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের প্রথমে চমকে দেয় আজান আওয়াইস ও শান মাসুদের ব্যাট। তাদের পথ ধরে হাফসেঞ্চুরি করেছেন অধিনায়ক বাবরও। তবে মূল বিস্ময়টা তুলে রেখেছিলেন ম্যাচটিতে অভিষেক হওয়া পেসার রাজাউল্লাহ। তার রেকর্ড ৯ ছক্কার ইনিংসেই মূলত ইংলিশদের লিড পেরোল পাকিস্তান।


বাবর-মাসুদরা প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৩ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর তাদের বিপক্ষে ইংলিশরা ৩২০ রানের লিড নেয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে রানের খাতা খোলার আগেই ২ উইকেট হারায় পাকিস্তান। ফলে তাদের ইনিংস হারের শঙ্কাটা ঝেঁকে বসে। তবে আজান আওয়াইস ও শান মাসুদের ১২৫ রানের জুটি সেই শঙ্কা কমতে থাকে। আজান ৮৪ বলে ১০ চারে ৫৯ রানে ফিরলে এই জুটি ভাঙে। এরপর ৮৯ রানের জুটি গড়েন বাবর-মাসুদ।
দারুণ ব্যাটিংয়ের পর সাবেক অধিনায়ক মাসুদ অবশ্য ১৪৮ বলে ১২ চারের সাহায্যে ৯৫ রানে আক্ষেপ নিয়ে ফিরেছেন। ৬৪ রানের জুটি গড়েন বাবর ও সৌদ শাকিল। বাবর ১০৩ বলে ১১ চার ও ১ ছক্কায় করেন ৭৬ রান। এ ছাড়া শাকিল ২৯ ও গাজী ঘোরি ১৬ রানে আউট হওয়ার পর পাকিস্তান খুব দ্রুতই হারতে যাচ্ছে মনে হচ্ছিল। অষ্টম ব্যাটার মোহাম্মদ ইমরান আউট হওয়ার সময়ও ইংল্যান্ড ২ রানে এগিয়ে। তবে নবম উইকেটে মোহাম্মদ আব্বাসকে নিয়ে ১২১ রানের অবিস্মরণীয় জুটি গড়েন রাজাউল্লাহ।


৬৭ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৪২ রান করা আব্বাসের বিদায়ে সেই জুটি ভাঙে। ১০ রানের ব্যবধানে রাজাউল্লাহ ফেরার পরই পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস থামে ৪৪৯ রানে। এর আগে রাজা খেলেছেন ৬৩ বলে ৪ চার ও ৯ ছক্কায় ৮১ রানের রেকর্ডগড়া ইনিংস। ইংলিশদের পক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন গাস অ্যাটকিনসন। দুটি করে শিকার ধরেন তিন বোলার।
টেস্টে অভিষেকে সর্বোচ্চ ৯টি ছক্কার রেকর্ড গড়েছেন রাজা। তার আগে অবশ্য ২০০৮ সালে নিউজিল্যান্ডের সাবেক তারকা পেসার টিম সাউদিও অভিষেক ম্যাচে ৯টি ছক্কা হাঁকান, কাকতালীয় সেখানেও প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ড। পাকিস্তানের অভিষিক্ত ক্রিকেটার হিসেবে রাজার ৪৩ বলে ফিফটি সবচেয়ে দ্রুততম। এর আগে ফাহিম আশরাফ করেছিলেন ৫২ বলে। এ ছাড়া টেস্ট অভিষেকে ৯ নম্বর বা এর পরে ব্যাটিংয়ে নেমে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসেও যৌথভাবে চারে অবস্থান করছেন রাজাউল্লাহ। তার সমান ৮১ রানের ইনিংস আছে দক্ষিণ আফ্রিকার করবিন বশের।


তবে নয় কিংবা এর নিচে ব্যাটিংয়ে নেমে সর্বোচ্চ ১১৩ রানের ইনিংসটা বাংলাদেশের আবুল হাসান রাজুর। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার রেগি ডাফ ১০৪ ও অ্যাশটন আগার ৯৮ রান করেছেন অভিষেকে এত নিচে ব্যাটিংয়ে নেমে। এদিকে, ২০১৬ সালের পর ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্টে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ (৪৪৯) পেল পাকিস্তান।











