নাইদুল হোসাইন ইমন
বাবার কষ্ট কমাতে স্কুল শেষে দোকানে বসে তৃতীয় শ্রেণির আলাউদ্দিন
নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার কাজে সহযোগিতা করছে কুমিল্লার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. আলাউদ্দিন। ছোট বয়সেই পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ ও বাবার প্রতি ভালোবাসার দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে এই শিশু।
কুমিল্লা নগরীর সিটি কর্পোরেশনের পেছনের এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করে মো. আলাউদ্দিন। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার। বাবা জসিম মিয়ার সঙ্গে প্রায় চার বছর আগে কুমিল্লা শহরে আসে তাদের পরিবার। বর্তমানে সেখানেই বসবাস তাদের।
আলাউদ্দিন কুমিল্লা রেয়াজ উদ্দিন স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রতিদিন নিয়ম করে স্কুলে যায় সে। তবে পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার কাজেও সহযোগিতা করে এই ছোট্ট শিশু।
স্কুল ছুটি হওয়ার পর অন্য অনেক শিশুর মতো শুধু খেলাধুলায় সময় না কাটিয়ে বাবার কাজে হাত বাড়িয়ে দেয় আলাউদ্দিন। তার বাবা কোনো প্রয়োজনে দোকানের বাইরে গেলে তখন নিজেই দোকানের দায়িত্ব সামলায় সে। ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলা থেকে শুরু করে দোকানের প্রয়োজনীয় কাজগুলোও নিজের মতো করে সামলে রাখে।
আলাউদ্দিনের ভাষ্য, বাবাকে একা সবকিছু করতে দেখলে তার খারাপ লাগে। তাই স্কুল থেকে ফিরে বাবার কাজে সহযোগিতা করার চেষ্টা করে সে। এতে বাবার কিছুটা কষ্ট কমে—এটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দ।
ছোট বয়সেই পরিবারের প্রতি এমন দায়িত্ববোধের কারণে আলাউদ্দিনকে ঘিরে আশাবাদী তার পরিবার। পরিবারের সদস্যরা চান, পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তার এই মানবিক ও দায়িত্বশীল মানসিকতা যেন ভবিষ্যতেও অটুট থাকে।


আলাউদ্দিনের মতো শিশুর গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—শিশুদের স্বপ্ন শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়। পরিবারের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও পরিশ্রমের মধ্য দিয়েও তারা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা অর্জন করে।
তবে আলাউদ্দিনের পরিবারের প্রত্যাশা, সে যেন নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে নিজের স্বপ্ন পূরণ করে একজন প্রতিষ্ঠিত মানুষ হতে পারে।
ছোট্ট বয়সে বাবার পাশে দাঁড়ানো আলাউদ্দিন তাই শুধু একজন শিক্ষার্থী নয়, পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসার এক সুন্দর উদাহরণ।












