কুমিল্লাসোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাদামের ঝুড়িতে পরিবারের স্বপ্ন, কুমিল্লায় জীবনযুদ্ধে মোবারক

প্রতিবেদক
Cumilla Press
আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৩:০০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নাইদুল হোসাইন ইমন

প্রতিদিন ১ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে বিক্রি করেন ২ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকার বাদাম
বাবা নেই। সংসারে অভাব নিত্যসঙ্গী। তারপরও থেমে নেই ৩৪ বছর বয়সী মোবারক।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই যুবক বাবার মৃত্যুর পর গ্রামে কৃষিকাজ ও রাজমিস্ত্রির কাজ করে পরিবারের হাল ধরেছিলেন। কিন্তু সেই কাজ বেশিদিন চালিয়ে যেতে পারেননি। পরিবারের স্বজনদের ছেড়ে প্রায় দুই বছর আগে জীবিকার সন্ধানে কুমিল্লায় চলে আসেন মোবারক।
এখন কুমিল্লার একটি মেসে থাকেন তিনি। প্রতিদিন সকালে বাদাম কিনে নিজেই তা প্রস্তুত করেন। এরপর সারাদিন বিভিন্ন পার্কে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেন সেই বাদাম। এভাবেই নিজের থাকা-খাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের খরচও চালানোর চেষ্টা করছেন তিনি।


মোবারকের পরিবারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব তার কাঁধে। তার দুই বোনের একজন চতুর্থ শ্রেণিতে এবং অন্যজন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। তাদের পড়াশোনার খরচ, সংসারের ব্যয় এবং মায়ের ওষুধের খরচ—সবকিছু সামলাতে প্রতিদিনই সংগ্রাম করতে হয় তাকে।
মোবারক বলেন, প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে বাদাম বিক্রি শুরু করেন তিনি। সারাদিন পরিশ্রম করে বিক্রি হয় প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকার বাদাম।
কিন্তু এই আয় থেকে নিজের খাওয়া-থাকা, মেসের খরচ এবং পরিবারের জন্য টাকা পাঠানোর পর খুব বেশি কিছু অবশিষ্ট থাকে না।


মোবারকের মা-ও একটি বাসাবাড়িতে কাজ করেন। মা-ছেলের আয় দিয়েও সংসারের প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও দুই বোনের পড়াশোনা যেন বন্ধ না হয়, সে জন্য নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছেন মোবারক।
তার কাছে বাদাম বিক্রি শুধু একটি ব্যবসা নয়—এটাই পরিবারের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার লড়াই।
মোবারকের মতো দেশের হাজারো শ্রমজীবী পুরুষ প্রতিদিন নীরবে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। কারও হাতে বাদামের ঝুড়ি, কারও হাতে ইট-পাথর, আবার কারও কাঁধে শ্রমের বোঝা।
তাদের এই সংগ্রামের পেছনে রয়েছে একটাই স্বপ্ন—পরিবারকে একটু ভালো রাখা, সন্তান ও ভাই-বোনদের পড়াশোনা করানো এবং প্রিয় মানুষগুলোর মুখে হাসি ফোটানো।


মোবারকের গল্প তাই শুধু একজন বাদাম বিক্রেতার গল্প নয়; এটি একজন পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়া মানুষের নীরব জীবনযুদ্ধের গল্প।