আগের সেশনে ৪ শতাংশের বেশি বাড়ার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। মার্কিন ট্রেজারির অপ্রত্যাশিত তারল্য সহায়তা বন্ডের ইল্ড ও ডলারের দরপতনে সহায়তা করলেও, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিতের কারণে বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নেয়ায় স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি হয়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৭৯.১২ ডলারে নেমে এসেছে।
এর আগে বুধবার দাম দুই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে ৪ হাজার ৫২৫.৭৯ ডলারে উঠেছিল। এদিন মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারও ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৩৫.৭০ ডলারে নেমেছে।
বুধবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি নোট ও বন্ডের জন্য তাদের তারল্য সহায়ক পুনঃক্রয় কার্যক্রমের আকার দ্বিগুণ করা হবে। এর ফলে বন্ড বাজারের চাপ কিছুটা কমতে পারে। এদিকে মার্কিন ডলার তিন মাসের সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
অ্যাক্টিভট্রেডসের সিনিয়র বিশ্লেষক রিকার্ডো ইভাঞ্জেলিস্টা বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে স্বর্ণের এই দরপতনকে বড় কোনো নিম্নমুখী প্রবণতার শুরু হিসেবে না দেখে স্বল্পমেয়াদি সংশোধন হিসেবেই দেখা উচিত।
তিনি বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে স্বর্ণের দামের গতিপথ মূলত ফেডারেল রিজার্ভের নীতি নিয়ে প্রত্যাশা এবং পারস্য উপসাগরের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
ফেডের সর্বশেষ নীতি নির্ধারণী সভার কার্যবিবরণীতেও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। এতে দেখা গেছে, বেশ কয়েকজন নীতিনির্ধারক সুদের হার বাড়ানোর জন্য প্রস্তুত ছিলেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অচলাবস্থা মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও ব্যাঘাত ঘটাতে পারে-এমন আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার তেলের দাম তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘কোনো ধরনের সহায়তা’ দেয়া যেকোনো দেশকে অর্থনৈতিক পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট বকেয়া ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এতে দেশটির আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা বর্তমানে সেপ্টেম্বরে ফেডের নীতি সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা ৬৭ শতাংশ হিসেবে দেখছেন।
তবে স্বর্ণের ভবিষ্যৎ দাম নিয়ে আশাবাদী মর্গান স্ট্যানলি। প্রতিষ্ঠানটি ধারণা করছে, ২০২৭ সালে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ডলারের ওপরে উঠতে পারে, এমনকি এর আগেও এই পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। ফেড তার নীতি অপরিবর্তিত রাখবে-এমন প্রত্যাশার ভিত্তিতেই এই পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
তবে মর্গান স্ট্যানলি সতর্ক করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতির তথ্য বাজারে অস্থিরতা বাড়াতে পারে। পাশাপাশি কমেক্সে শর্ট পজিশন কম থাকায় শর্ট-কভারিংয়ের মাধ্যমে স্বর্ণের দামে আরও বড় লাভের সুযোগও সীমিত হয়ে এসেছে।
স্বর্ণকে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে কোনো সুদ বা আয় না দেয়া এই ধাতু ধরে রাখার সুযোগ ব্যয় বেড়ে যায়। ফলে উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের আকর্ষণ কমিয়ে দেয়।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট রুপার দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৬.৬৩ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ০.৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮১৫.৫৭ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৩১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।












