কুমিল্লাবৃহস্পতিবার, ২০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জিডি করে রাতে বাড়ি ফেরার পথে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

প্রতিবেদক
Cumilla Press
আগস্ট ২০, ২০২৬ ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রংপুরের মিঠাপুকুরে জমি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে মুদি ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানকে (৪৬) কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের চিথলী পশ্চিমপাড়া (পোড়ারহাট) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সমকালের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়। এতে আরো জানানো হয়, নিহত মিজানুর রহমান ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। বাড়ির পাশে পোড়ারহাট বাজারে তার একটি মুদি দোকান রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় নিহতের মা আজুবা বেগম বুধবার মিঠাপুকুর থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেছেন।

মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিবেশী আব্দুল কাফি মুন্সির সঙ্গে মিজানুর রহমানের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলছিল। মঙ্গলবার দুপুরে নিজের দোকানের সামনে বসে থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষের লোকজন মোটরসাইকেল দিয়ে মিজানুরের পায়ে ধাক্কা দেন।

এতে তিনি আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে মিজানুরকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে এ ঘটনায় মিজানুর তার মাকে সঙ্গে নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে যান। জিডি করে রাতে বাড়ি ফেরার পথে দোকানের কাছাকাছি পৌঁছালে একদল লোক তাদের বহনকারী রিকশা-ভ্যানের গতিরোধ করে।

অভিযোগ রয়েছে—নুরনবী, নুর মোহাম্মদ, মাসুদ, মোস্তাফিজার, কালাম, মাহফুজারসহ ১০-১২ জন ব্যক্তি বঁটি, রামদা, ছুরি ও লাঠি নিয়ে মিজানুরের ওপর হামলা চালান। তাকে ভ্যান থেকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপানো হয়।

এসময় ছেলেকে বাঁচাতে মা আজুবা বেগম হামলাকারীদের কাছে হাতজোড় করে মিনতি করতে থাকেন। কিন্তু তাকে টেনে সরিয়ে দিয়ে মিজানুরকে আবারও কোপানো হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহতের বোন রেখা বেগম বলেন, ‘মোর ভাই প্রত্যেক দিন মোবাইল করি হামার খবর নেয়। খচরপাতি করি দেয়। আইজ থাকি আর কোনো দিন ফোনে কল দিবার নায়। বিনা দোষে ভাইকে সন্ত্রাসীরা মারি ফালাইলো। তাদের ফাঁসি চাই।’

প্রতিবেশী দেলোয়ার হোসেন ও আব্দুল করিম বলেন, মিজানুরকে ভ্যান থেকে নামিয়ে প্রথমে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

মিঠাপুকুর থানার ওসি এরশাদ আহমেদ জানান, এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত ১০ জন এবং অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। আসামিরা পলাতক থাকায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।