কুমিল্লাশুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গোসল করতে নেমে ৪ মাদরাসা ছাত্রীর মৃত্যু

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জুলাই ১৬, ২০২৬ ৯:৩৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় একসঙ্গে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে ৪ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার চাঁন্দেরকান্দি ইউনিয়নের বড়কান্দা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত চার শিশু হলেন বড়কান্দা গ্রামের শামীম মিয়ার মেয়ে তাবিয়া (১৩), রুবেল মিয়ার মেয়ে আয়েশা (৯), রুবেল মিয়ার মেয়ে জান্নাত (৮) এবং বিল্লাল মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া (১০)। নিহতরা সবাই বড়কান্দা গাউসিয়া নুরে মদিনা মহিলা মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিলেন। একসঙ্গে ৪ জনের মৃত্যুতে স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারি হয়ে পড়েছে হাসপাতালের পরিবেশ।

হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদরাসার বিরতির (টিফিন) সময় একসঙ্গে ৬ শিক্ষার্থী পাশের একটি খালে গোসল করতে নামে। সাঁতার না জানা এবং খালের গভীরতা বুঝতে না পারায় মুহূর্তের মধ্যে ৪ জন পানির নিচে তলিয়ে যেতে থাকে। এ সময় বাকি ২ জন কোনোমতে পাড়ে উঠে এসে চিৎকার করে স্থানীয়দের বিষয়টি জানায়।

স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে খালে নেমে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং একে একে চারজনকেই অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। অন্য আরেক শিশু ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়। তার মরদেহ বাড়িতে রাখা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের মাঝে সরকারি তহবিল থেকে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা।

নিজের একমাত্র কন্যাসন্তান তাবিয়াকে হারিয়ে হাসপাতালের এক কোণে বসে স্তব্ধ ও পাগলপ্রায় বাবা শামীম মিয়া। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, সকালে খেয়ে কাজের উদ্দেশ্যে তিতাস ট্রেন ধরার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে রায়পুরা বাজারে আসি। বাজারে পৌঁছা মাত্রই বাড়ি থেকে ফোন আসে যে মেয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছে। আমি আর ট্রেনে উঠতে পারলাম না, দৌঁড়ে হাসপাতালে ছুটে এলাম।

রায়পুরা থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নাজমুল হাসান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জসহ হাসপাতালে এসে তিনটি শিশুর মরদেহ দেখতে পাই। এ ঘটনায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি একজনের লাশ তার বাড়িতে রাখা আছে। লাশগুলোর সুরতহাল শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার জন্য আবেদন করা হয়েছে।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আশরাফুর রহমান বলেন, দুপুর ১টার দিকে তিন শিশুকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাদের মৃত্যু হয়। আমরা পরীক্ষা করে তাদের কারোরই শ্বাস-প্রশ্বাস বা হার্টবিট পাইনি। হাসপাতালে আনার আগেই তারা মারা গেছে।