মহররম মাসের কাবা শরিফের বার্ষিক গোসল সম্পন্ন হয়েছে।
ইসলামের ইতিহাসে কাবা শরিফ ধৌত করার এ ঐতিহ্য অত্যন্ত প্রাচীন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) হিজরি ১৪৪৮ সালের ১৫ মহররম ফজরের নামাজের পর অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে এ ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ–এর পক্ষে কাবা শরিফ ধৌত করার এ অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন প্রিন্স সৌদ বিন মিশআল বিন আবদুল আজিজ। প্রতিবছরের মতো এবারও নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতা ও সুগন্ধি সামগ্রী ব্যবহার করে কাবা শরিফের অভ্যন্তর পরিষ্কার ও সুগন্ধিমণ্ডিত করা হয়।
এবারের গোসল অনুষ্ঠান তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথম ধাপে কাবা শরিফের অভ্যন্তরে প্রবেশের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কিসওয়াহ সংরক্ষণের জন্য দরজার নিচের অংশ উঁচু করে বাঁধা হয় এবং ধোয়ার জন্য বিশেষ মিশ্রণ প্রস্তুত করা হয়। এ পর্যায়ে ২০ লিটার জমজমের পানি এবং ৮০ মিলিলিটার বিশেষ উদের তেল ব্যবহার করা হয়।
দ্বিতীয় ধাপে জমজমের পানি ও তায়েফের গোলাপজলের বিশেষ মিশ্রণে ভেজানো কাপড় দিয়ে কাবা শরিফের ভেতরের দেয়াল, স্তম্ভ ও মেঝে ধৌত করা হয়। এতে ৫৪০ মিলিলিটার তায়েফের গোলাপজল, ১১ লিটার বিশেষ সুগন্ধি এবং ৩ মিলিলিটার মেশক (মাস্ক) ব্যবহার করা হয়।


শেষ ধাপে কাবা শরিফের অভ্যন্তরের দেয়াল ও কোণগুলো উদের তেল দিয়ে সুগন্ধিময় করা হয়। পাশাপাশি ৫০০ মিলিলিটার তায়েফের গোলাপের তেল এবং ৫০০ গ্রাম উৎকৃষ্ট মানের বাখুর জ্বালিয়ে পুরো অভ্যন্তর সুবাসিত করা হয়।
ইসলামের ইতিহাসে কাবা শরিফ ধৌত করার এ ঐতিহ্য অত্যন্ত প্রাচীন। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, মুহাম্মদ (সা.) কাবা শরিফে প্রবেশ করে এর অভ্যন্তরে নামাজ আদায় করেছিলেন এবং তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছিলেন। সেই সুন্নাহর ধারাবাহিকতায় যুগ যুগ ধরে সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে কাবা শরিফের বার্ষিক গোসলের আয়োজন করে আসছে।
বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের কাছে এই বার্ষিক গুসল অনুষ্ঠান গভীর ধর্মীয় তাৎপর্য বহন করে। এটি কাবা শরিফের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান, পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা রক্ষার এক অনন্য ঐতিহ্যের প্রতীক।












