২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জাতীয় সংসদ। তার বক্তব্যের মাঝে অন্য সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানালে সংসদে হট্টগোল সৃষ্টি হয়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বারবার হস্তক্ষেপ করতে হয় অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকারকে।
রোববার (১৪ জুন) বিকেলে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়।
দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিতে ফ্লোর পান সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘ঐতিহাসিক, যুগান্তকারী, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং গণমুখী’ বলে আখ্যায়িত করেন।বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রার প্রশংসা করেন তিনি। এছাড়া কুমিল্লা-ঢাকা রেললাইন প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই লাইনের সার্ভে করিয়েছিলেন, কিন্তু শেখ হাসিনা এটি করতে দেননি।
তবে তার বক্তব্যের রাজনৈতিক অংশ শুরু হতেই সংসদে উত্তাপ ছড়াতে থাকে। দেশে অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে সমালোচনার জবাবে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যখন আন্দোলন করি, তখন বলা হয়েছিল দেশ যেভাবে চলে গেছে, এই দেশ চালাতে অর্থ পাবে কোথায়? আমি তারেক রহমানকে আবারো ধন্যবাদ দেই, ওনার দেশ চালানোর সাহস আছে।’
সংসদে একটি বই বা নথির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার এবং তারেক রহমানকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছোট করার অপচেষ্টা চলছে। বিরোধী সদস্যদের উদ্দেশ্য করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তারেক রহমানের রাজনীতি করার কারণে তার নামে মামলা হয়েছে। কিন্তু জাইমা রহমান কী অন্যায় করেছেন? আপনাদের ভোটের মাধ্যমে যে ভাষা প্রয়োগ করেন, দেশের মানুষ তা দেখে। আমাদের দেশপ্রেমে বাধা দিলে আমরা প্রতিবাদ করব। আমি সরকারের কাছে এর বিচার চাই।’
এ সময় তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলে সংসদে চরম হট্টগোল ও বাদানুবাদ শুরু হয়। জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গ টেনে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ওনাদের সাথে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। ১৯৬৮ সনে গোলাম আযমের নেতৃত্বে ঢাকায় আন্দোলন করেছি। আমি স্বীকার করি, জামায়াত ক্যাডারভিত্তিক সংগঠন, আপনারা লেখাপড়া করে রাজনীতি করেন।’
তার এই মন্তব্যের পরও সংসদে পক্ষে-বিপক্ষে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বক্তব্যের এক পর্যায়ে ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক কথাবার্তা শুরু হলে সংসদে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। হট্টগোলের মধ্যে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ আসনে বসার অনুরোধ জানিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ডেপুটি স্পিকার রুলিং দিয়ে বলেন, ‘গণতান্ত্রিক কার্যক্রম পরিচালনার এই মহান সংসদে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা (পার্সোনাল ফ্রিডম) নিয়ে কথা বলা উচিত নয়।’ পরে মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের ‘পার্সোনাল ফ্রিডম’ সংক্রান্ত অংশটুকু সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ (বাদ) করার ঘোষণা দেন তিনি।
হট্টগোল ও উত্তাপের মধ্যেই অবশেষে আসরের নামাজের জন্য সংসদ অধিবেশন ৩০ মিনিটের জন্য মুলতবি ঘোষণা করেন ডেপুটি স্পিকার।












