ঢাকার রায়েরবাগে মাদ্রাসা থেকে শিশু শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় শিক্ষক জাকারিয়াকে তিন দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার অপর শিক্ষক জোবায়ের আহম্মেদের (২০) রিমান্ড শুনানির দিন রাখা হয়েছে ১৮ অগাস্ট।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আব্দুস ছবুর।
এদিন শুনানি শেষে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে আসামিদের ওপর হামলা চালায় নিহতের স্বজনরা।
গত ৩ অগাস্ট দুপুরে জোড়াখাম্বা এলাকার রওয়াজাতুল উলুম হাফিজিয়া নুরানি
মাদ্রাসার তৃতীয় তলার বাথরুম থেকে ১৩ বছর বয়সি নাঈম শেখের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার মা নাজমা বেগম ওই দুজনকে আসামি করে মামলা করেন। সেদিন রাত ১০টার দিকে মাদ্রাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
৫ অগাস্ট তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কদমতলী থানার এসআই আমজাদ হোসেন। আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন বৃহস্পতিবার।
এদিন শুনানিকালে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। বাদীপক্ষে আইনজীবী হারুনর রশীদ খান রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। জাকারিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী ইমদাদুল আলম রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আর্জি জানান। আর জোবায়েরকে শিশু দাবি করেন তার আইনজীবী। এজন্য তার বিষয়ে শুনানি হয়নি।
জাকারিয়ার বক্তব্য শুনতে চান বিচারক।
তিনি বলেন, “জোহরের আজানের পর বাথরুমে যায়। আর আসে না। ডাক দিলেও বাথরুমের দরজা খোলে না।
“বড় ছাত্ররা মাদ্রাসায় ছিল। তারা দরজা খোলে। দেখে, জামার হাতার সাথে ফাঁসি দিয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমি তখন মদনপুর ছিলাম। ফোনে খবর পেয়ে মাদ্রাসায় আসি। এসে দেখি গা গরম ছিল। ডাক্তারকে কল করি। তিনি আসেন।
“এসে বলেন, ‘বাচ্চা আর নেই। গার্ডিয়ান, পুলিশকে খবর দেন’। পরে তাদের খবর দেই।”
এসময় বিচারক জানতে চান, মাদ্রাসায় সিসিটিভি ভিডিও আছে কি না?
জাকারিয়া বলেন, “আছে। তবে হার্ডডিস্ক নষ্ট। তদন্ত, পোস্টমর্টেম করলে সব বের হয়ে আসবে।”
এপর্যায়ে বিচারক বলেন, “ধরে নিলাম,আন ন্যাচারালি কিছু নাই। শারীরিকভাবে আঘাত করেছেন?”
এর সদুত্তর না দিয়ে জাকারিয়া বলেন, “মাদ্রাসার হাফেজ বলেছে, আগেও সে তিনবার পালাইছে।”
বিচারক বলেন, সিসিটিভির হার্ডডিস্ক নষ্ট, প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে এর দায় এড়াতে পারেন না।
নাঈম শেখের ভাইও ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতো। তাকে ডেকে নিয়ে বক্তব্য শোনেন বিচারক।
কী পড়েন জানতে চাইলে নাঈমের ভাই বলেন, “নাজারাত।”
শিক্ষকরা মারধর করতো কি না, বিচারক জানতে চাইলে বলেন, “মারতো।”
কী দিয়ে মারতো, এ প্রশ্নের উত্তরে শিশুটি বলেন, “বেত দিয়ে।”
পরে আদালত জাকারিয়ার তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। তবে জোবায়েরের বিষয়ে শুনানির দিন রাখেন ১৮ অগাস্ট।
আসামিদের ওপর হামলা
মাদ্রাসার দুই শিক্ষককে আদালতে হাজির করা হবে জেনে সকাল থেকে নাঈমের মা-বাবা, ভাইসহ স্বজনরা আদালতের সামনে অবস্থান করেন। শুনানিকালে এজলাসে তোলা হলো, সেখানে অবস্থান করেন তারা। রিমান্ড আদেশের ওপর তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
পরে আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে আসামিদের ওপর হামলা চালান নিহতের স্বজনরা। পরে দ্রুততার সঙ্গে তাদের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, নাজমা বেগমের দুই ছেলেই ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। আসামিরা বিভিন্ন কারণে নাঈমকে নির্যাতন করতেন। নাঈম বিষয়টি তার মাকে জানান। নাজমা তার ছেলেকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে আসতে চান। কিন্তু আসামিরা মাদ্রাসা থেকে ছাড়পত্র দেবে না বলে জানায়। নাঈম সেখানে পড়াশোনা করতে না চাওয়ায় আসামিরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং নির্যাতন করতে থাকেন।
৩ অগাস্ট দুপুর ১টার দিকে নাঈম তার শিক্ষকদের জানিয়ে দেন, তিনি মাদ্রাসায় পড়বেন না। তখন তাকে মারধর করা হয় এবং চেঙ্গাদোলা করে রাখা হয়। পরবর্তীতে দুপুর ১টা থেকে আড়াইটার মধ্যে আসামিরা নাঈমকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে অভিযোগ করেন নাজমা বেগম।










