কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ছাত্রশিবির নেতা জিসান প্রধানকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে কেউ অপহরণ করেনি, এক নারীর সঙ্গে প্রতারণামূলক ঘটনার জেরে তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে জিসানকে প্রধান করে ৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন এক নারী।
শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় জিসান দাবি করেছিলেন, তাকে গাড়ি যোগে অপহরণ করা হয়েছিল।
জিসান মিয়া প্রধান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক। তিনি শিবিরের কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।
তবে কুমিল্লা জেলা পুলিশ গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি, তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপন করেছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত ২০ মে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার দাউদকান্দির ভাড়া বাসায় এক নারীকে ধর্ষণ করেন জিসান। পরে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ওষুধের মাধ্যমে ভ্রূণ নষ্ট করা হয়। এ ঘটনার পর ওই নারী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে শুক্রবার বিয়ে করবেন বলে তিনি সম্মতি দেন।
পুলিশ আরও জানান, বৃহস্পতিবার জিসান ওই নারীকে বিয়ে না করার তালবাহানায় নিজেই আত্মগোপন করেন। পরে তার চাচাতো ভাই রাসেল আহাম্মদের মাধ্যমে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এদিকে জিসানের নাটকীয় উদ্ধারের খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে ওই নারী বাদী হয়ে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা এবং ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে জিসানকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, নিখোঁজ শিবির নেতাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে কেউ অপহরণ করেনি। এক নারীর সঙ্গে প্রতারণামূলক ঘটনার জেরে তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। ওই নারী তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি করা হয়। ওই নারী তার বিরুদ্ধে ভ্রূণ নষ্টসহ বেশ কিছু অভিযোগ করেছেন।
এর আগে, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে তাকে লাকসাম রেলওয়ে জংশন থেকে উদ্ধার করে লাকসাম ক্রসিং থানা পুলিশ।












