জহিরুল ইসলাম আজিম
সীমান্তবর্তী জেলা কুমিল্লা দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভারতের সঙ্গে ১২৫ কিলোমিটার সীমান্ত এবং বিস্তৃত নদীপথ থাকায় চোরাকারবারিদের জন্য জেলাটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। এমন বাস্তবতায় ২০২৫ সালে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে উল্লেখযোগ্য অভিযান পরিচালনা করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ।
বাংলাদেশ পুলিশের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে সারাদেশে ‘ক’ গ্রুপে তৃতীয় এবং মাদক উদ্ধারে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ। মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’-এ এ সংক্রান্ত সম্মাননা প্রদান করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে জেলায় মোট ৫২টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪টি দেশি রিভলভার, ১টি বিদেশি রিভলভার, ১টি দেশি পিস্তল, ১৭টি বিদেশি পিস্তল, ১৩টি পাইপগান, ১৩টি এলজি ও ৩টি শর্টগান। এসব ঘটনায় ৬৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেফতার হয়েছেন ৮৫ জন।
অন্যদিকে মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ৮ হাজার ৪৬ কেজি গাঁজা, ৩ লাখ ১ হাজার ৫৯৪ পিস ইয়াবা, ৯৩ হাজার ৪৫৫ পিস ট্যাপেন্ডাল ট্যাবলেট, ৬ হাজার ৯৪৭ বোতল ফেন্সিডিল, ৩ হাজার ৪ পিস স্কাফ সিরাপ, ৮২৩ ক্যান বিদেশি বিয়ার, ৮১১ বোতল বিদেশি মদ ও ১ হাজার ৬৯ লিটার দেশি মদ। এ সংক্রান্ত ১ হাজার ৫৭০টি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন ১ হাজার ৮৯৪ জন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্ত এলাকা হওয়ায় কুমিল্লায় অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সাম্প্রতিক অভিযানে উদ্ধার ও গ্রেফতারের পরিমাণ বাড়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা দৃশ্যমান হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, কুমিল্লা সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও মাদক নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত থাকবে।














