কুমিল্লাবৃহস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভারত-চীনকে ‘নরককুণ্ড’ আখ্যা দিয়ে বর্ণবাদী পোস্ট ট্রাম্পের, নেপথ্যে কী

প্রতিবেদক
Cumilla Press
এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ৫:৩১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ভারত, চীনসহ কয়েকটি দেশকে ‘নরককুণ্ড’ উল্লেখ করে বর্ণবাদীমূলক পোস্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও রেডিও উপস্থাপক মাইকেল স্যাভেজের পডকাস্ট ‘স্যাভেজ নেশন’-এর একটি অংশ পুনরায় পোস্ট করেছেন, যেখানে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে তীব্র সমালোচনা করা হয়।

পডকাস্টে স্যাভেজ দাবি করেন, ভারত ও চীনের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে এসে গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে সন্তান জন্ম দিয়ে সেই শিশুকে তাৎক্ষণিক মার্কিন নাগরিক বানিয়ে ফেলছেন। তিনি এটিকে আইনটির অপব্যবহার হিসেবে উল্লেখ করেন।

স্যাভেজ তার বক্তব্যে বলেন, ‘এখানে জন্ম নেয়া একটি শিশু সঙ্গে সঙ্গে নাগরিক হয়ে যায়, এরপর তারা চীন, ভারত বা অন্য কোনো ‘নরককুণ্ড’ দেশ থেকে তাদের পুরো পরিবার নিয়ে আসে।’ এছাড়া তিনি ভারতীয় ও চীনা অভিবাসীদের ‘ল্যাপটপ হাতে গুণ্ডা’ বলেও আখ্যা দেন এবং দাবি করেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও সমাজে বড় ধরনের ক্ষতি করছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রযুক্তিখাতে ভারতীয় ও চীনা কর্মীদের আধিপত্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয়দের জন্য চাকরির সুযোগ কমে যাচ্ছে। স্যাভেজের মতে, ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো হাই-টেক কোম্পানিতে শ্বেতাঙ্গদের চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য।

তিনি লিখেছেন, ‘সব মাফিয়া পরিবার মিলে যা ক্ষতি করেছে, তার চেয়েও বেশি ক্ষতি তারা এই জাতির করেছে। তারা আমাদের সর্বস্ব লুটে নিয়েছে, আমাদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকের মতো ব্যবহার করেছে, আমাদের পতাকার ওপর পা রেখেছে।’ ‘বার্থ ট্যুরিজম’ এবং কল্যাণমূলক সুবিধার অপব্যবহারের মাধ্যমে বর্তমান ব্যবস্থার অপব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানান স্যাভেজ। 

সিএনবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে স্যাভেজের এমন বিতর্কিত দাবির একদিন পর ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে তার বর্ণবাদী মন্তব্য তুলে ধরেন। স্যাভেজ দাবি করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বের আর কোনো দেশ জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেয় না। বাস্তবে, প্রায় তিন ডজন দেশ তাদের মাটিতে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব প্রদান করে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী কানাডা, মেক্সিকো এবং দক্ষিণ আমেরিকার বেশিরভাগ দেশ অন্তর্ভুক্ত।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব প্রথা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ওভাল অফিসের দায়িত্ব নেয়ার পর, ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারীদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব প্রদান বন্ধ করা হয়।

তবে, আইনগত ঐকমত্য ব্যাপকভাবে এটাই বলে যে, মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা দেয়। তবে, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। এই মাসের শুরুতে, মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প বনাম বারবারা মামলার যুক্তি-তর্ক শুনেছে, যেখানে রিপাবলিকান নেতার নির্বাহী আদেশকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

এই বিষয়ে আসন্ন রায় প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি তারা জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিষয়ে আমাদের দেশের বিরুদ্ধে রায় দেয়, যা তারা সম্ভবত দেবে, তবে এতে আমেরিকার বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে, কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এতে আমেরিকার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে!’