অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগে একটি ট্রাভেল এজেন্সির চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। অভিযানে জাল ভিসা, ভুয়া চেকসহ নানা আলামত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাজধানীর উত্তরার কাওলাবাজার ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। র্যাবের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে চাকরি দেয়ার নাম করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল।
ভুক্তভোগীদের একজন আবুল কালাম জানান, অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আশায় ধার-দেনা করে প্রায় ২১ লাখ টাকা একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেন তিনি। ভিসা প্রসেসিং ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার কথা বলে টাকা নিলেও পরে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। অনলাইনে যাচাই করতে গিয়ে ভিসা বৈধ দেখালেও দূতাবাসে যোগাযোগের পর সেটি ভুয়া বলে নিশ্চিত হন তিনি। এরপর থেকে সংশ্লিষ্টদের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
এমন অভিযোগ করেছেন আরও অনেক ভুক্তভোগী। তারা জানান, প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সময় গুলশান, বনানী ও মতিঝিল এলাকায় অফিস পরিবর্তন করে কার্যক্রম চালাত। টাকা নেয়ার পর গ্রাহকদের একটি নিজস্ব অ্যাপের মাধ্যমে ভিসার আপডেট দেখানো হতো, যা পরে ভুয়া বলে জানা যায়। সন্দেহ প্রকাশ করলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে অফিস গুটিয়ে নেয়া হতো।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, মাসে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিজনের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা নেয়া হতো। বলা হতো, কয়েক মাসের মধ্যেই পুরো টাকা উঠে আসবে। ‘গ্লোবাল’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় ভুয়া ভিসা তৈরি করে সরবরাহ করা হতো। এভাবে অন্তত ৩০ কোটির বেশি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযানে জাল পাসপোর্ট, ভিসার নথি ও ভুয়া চেকবই জব্দ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে এবং ভুক্তভোগীদের অভিযোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।












