কুমিল্লাবুধবার, ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৪৮ শতাংশ আ.লীগ সমর্থক বিএনপির দিকে ঝুঁকছে: সিআরএফ

প্রতিবেদক
Cumilla Press
ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ ২:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আসন্ন এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাবেক সমর্থকদের প্রায় ৪৮ শতাংশ বিএনপিকে সমর্থন করতে পারে বলে জানিয়েছে একটি জনমত জরিপ। বাকি ৫২ শতাংশ সমর্থক অন্য প্রার্থীদের বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘আনকাভারিং দ্য পাবলিক পালস’ শীর্ষক এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) ও বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ (বিইপিওএস)।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাবুল হক। বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের অর্থনীতি বিভাগের ভিজিটিং প্রফেসর ড. এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ। গবেষণাটি উপস্থাপন করেন লেখক ও গবেষক এবং সিআরএফ-এর স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ।

প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক অগ্রাধিকার, নেতৃত্ব সম্পর্কে ধারণা এবং নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে জনমত বিশ্লেষণ করা হয়। স্ট্রাটিফাইড র‌্যান্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতিতে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই ধাপে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মোট ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটার অংশ নেন।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার আগামী জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রায় ৮ শতাংশ ভোটার এখনো অনিশ্চিত অথবা ভোটে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেননি। লিঙ্গ, বয়স, শিক্ষা ও বসবাসের স্থানভেদে ভোটদানের আগ্রহে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি।

ভোটারদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে দুর্নীতি ও সুশাসন। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার দুর্নীতিকে দেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বিপরীতে, ধর্মীয় বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন মাত্র ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটাররা ব্যক্তিগত ক্যারিশমার চেয়ে জনদরদি, দায়িত্বশীল ও কার্যকর নেতৃত্বে বিশ্বাসী নেতাদের বেশি পছন্দ করছেন। রাজনৈতিক তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সবচেয়ে প্রভাবশালী মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। অধিকাংশ ভোটার একাধিক তথ্যসূত্র ব্যবহার করেন।

নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগও উঠে এসেছে জরিপে। এতে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন ব্যবস্থাপনার তুলনায় ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে ভোটাররা বেশি শঙ্কিত। ভয়ভীতি প্রদর্শন, জালিয়াতি ও ব্যালট দখলের আশঙ্কা সব রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যেই রয়েছে।

জরিপে আরও দেখা যায়, ২০০৮ সালের পর প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া ভোটারদের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ জামায়াতকে পছন্দ করছেন। ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে অধিকাংশ ভোটার প্রার্থীকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করেন। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার জানিয়েছেন, তারা প্রার্থী অথবা প্রার্থী ও দল উভয় বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভোট দেবেন। এর মধ্যে ৩০ দশমিক ২ শতাংশ শুধু প্রার্থীকে গুরুত্ব দেন এবং ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ প্রার্থী ও দল উভয়কেই বিবেচনায় নেন।