প্রায় ৯ বছর আগে ঢাকার মধ্য বাড্ডা এলাকায় স্ত্রীকে জবাই করে হত্যার দায়ে স্বামী মনির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. সাদেকীন হাবীব বাপ্পী এ রায় দেন।মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আবুল কাশেম এ তথ্য জানান।
পুরুষ নির্যাতন দমনে আইন চেয়ে হাইকোর্টে রিট
তিনি বলেন, আসামি মনির জামিনে ছিলেন। গত ১৪ জুলাই এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের শুনানি হয়।সেদিন আদালত রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন এবং আসামির জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠান। আজ রায় ঘোষণার আগে মনিরকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে মনির হোসেনের সঙ্গে শাকিলা খাতুন সোমার বিয়ে হয়। তাদের একটি মেয়ে রয়েছে। একপর্যায়ে মনির ও তার পরিবারের সদস্যরা সোমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সোমা তা মেনে নেন। মনির ব্যবসার কথা বলে সোমার কাছে টাকার জন্য চাপ দিতেন। সোমার পরিবার বিভিন্ন সময়ে তাকে ১১ লাখ টাকা দেয়। কিন্তু আরও টাকার জন্য তিনি স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন।
এর ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মনির মারধর করে সোমাকে বাসা থেকে বের করে দেন। পরে সোমা তার মায়ের বাসা বাড্ডায় চলে যান। আর কখনো এমন করবেন না-এমন অঙ্গীকার করে কয়েক দিন পর সোমাকে আবার বাসায় নিয়ে আসেন মনির। এরপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর দুপুরে টাকা-পয়সা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া বাধে। একপর্যায়ে মনির ছুরি দিয়ে সোমাকে জবাই করেন। সোমার আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মিডফোর্ডে সোহাগ হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পেছালো
এ ঘটনায় সোমার মা মোছা. আক্তার বানু ওই দিনই বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দিও দেন।
মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক বায়েজীদ বোস্তামী আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
২০১৮ সালের ১৭ মে অভিযোগ গঠন করে মনিরের বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। বিচার চলাকালে আদালত ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।












