রাঙ্গামাটির লংগদুতে কাপ্তাই হ্রদে কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যাওয়া নৌকার যাত্রী মো. সালামের (২৮) ভাসমান মরদেহ দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। নিজের প্রাণ বাজি রেখে আট বছরের নিষ্পাপ সন্তানকে অন্য নৌকায় তুলে দিয়ে বাঁচাতে পারলেও, কাপ্তাই হ্রদের উত্তাল ঢেউয়ের কবলে তলিয়ে যান এই দরদী বাবা।
সোমবার সকাল ৮টার দিকে লংগদু উপজেলার কাট্টলী বিল এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সালাম উপজেলার গুলশাখালী ইউনিয়নের গুলশাখালী সোনারগাঁও এলাকার মৃত শাহাবুদ্দীনের ছেলে
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বেলা ৩টার দিকে মাইনীমুখ বাজার থেকে নিজ ৮ বছরের শিশুসন্তানকে নৌকায় নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন সালাম। পথিমধ্যে হঠাৎ তীব্র কালবৈশাখী ঝড় ও কালচে ঢেউয়ের কবলে পড়ে তাদের ছোট নৌকাটি উল্টে যায়।
ঝড়ো বাতাসে হ্রদের পানি উত্তাল হয়ে উঠলে সালাম নিজের প্রাণ বাঁচানোর চিন্তা না করে একহাতে সন্তানকে বুকে শক্ত করে চেপে ধরে ভাসতে থাকেন। এ সময় কাছে থাকা একটি জেলে নৌকা দ্রুত এগিয়ে এলে সালাম প্রথমে পরম মমতায় সন্তানকে জেলেদের হাতে তুলে দেন। কিন্তু শিশুটিকে রক্ষা করার পরপরই হ্রদের প্রকাণ্ড ঢেউ ও ঘূর্ণিস্রোতের ধাক্কায় সালাম মুহূর্তের মধ্যে গভীর পানির তলে তলিয়ে যান।
ঘটনার আকস্মিকতায় সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি শুরু করলেও নিখোঁজ সালামের কোনো সন্ধান পাননি। খবর পেয়ে রাঙ্গামাটি সদর থেকে ফায়ার সার্ভিসের অভিজ্ঞ ডুবুরি দল লংগদুতে পৌঁছায় এবং রোববার রাত থেকেই হ্রদে ধারাবাহিক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।
লংগদু ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা হেলাল উদ্দীন জানান, রাতের আন্ধকার ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও ডুবুরি দল নিরবচ্ছিন্ন অনুসন্ধান চালায়। পরবর্তীতে সোমবার সকাল ৮টার দিকে নিখোঁজ সালামের নিথর দেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন তাঁরা। আইনি প্রক্রিয়া শেষে উদ্ধারকৃত মরদেহ স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
সন্তানকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে নিজে প্রাণ বিসর্জন দেওয়া এই বাবার করুণ মৃত্যুতে পুরো গুলশাখালী এলাকা ও রাঙ্গামাটির লংগদুজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।












