চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বাড়ির আঙিনা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর হালিমা আক্তার (৩) নামে এক শিশুর মরদেহ পাওয়া গেছে প্রতিবেশীর ঘরে। শনিবার রাতে দাঁতমারা ইউনিয়নের নিশ্চিন্তা গ্রামের আব্দুল আওয়ালের বসতঘরে জামাকাপড় রাখার আলনার ওপর কাপড় দিয়ে ঢাকা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রতিবেশী আব্দুল আওয়াল (৬৫), তাঁর মেয়ে আসমা আক্তার (২০) ও রবিউল (১৬) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিহত হালিমা ওই গ্রামের নাসির উদ্দিন ও রাশেদা বেগমের মেয়ে। শিশুটির কপালে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছে পুলিশ। তবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির আঙিনা থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয় হালিমা। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনও শিশুটিকে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রতিবেশী মারুফ জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে ভূজপুর থানার অধীন দাঁতমারা তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা শিশুটিকে উদ্ধারে তল্লাশি শুরু করেন। রাতের দিকে প্রতিবেশী আব্দুল আওয়ালের ঘরের আলনার ওপর কাপড় দিয়ে ঢাকা অবস্থায় শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী তারেক আজীজ ও ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দেসহ পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করেন।
পুলিশ জানায়, শিশুটির বাবা নাসির উদ্দিনের সঙ্গে প্রতিবেশী আব্দুল আওয়ালের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। এ বিরোধের জেরে শিশুটিকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ ও মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা জানতে তদন্ত চলছে।
ভূজপুর থানার ওসি বিপুল চন্দ্র দে বলেন, নিখোঁজ শিশুটির সন্ধানে পুলিশ কাজ করছিল। পরে প্রতিবেশীর ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
তিনি আরও বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।












